জাপানি শিশুরা সাধারণত অনেক জিনিস পছন্দ করে। তবে তা অন্যান্য দেশের শিশুদের মতো নয়—এখানে সংস্কৃতি, পরিবেশ এবং শিক্ষাব্যবস্থার গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়। জাপানের শিশুদের সবচেয়ে প্রিয় বিষয়গুলোর মধ্যে খেলাধুলা, অ্যানিমে-কার্টুন, খেলনা, প্রকৃতি এবং খাবারের প্রতি বিশেষ আকর্ষণ লক্ষ করা যায়।
প্রথমেই খেলাধুলার কথা বলা যায়। জাপানে শিশুদের মধ্যে ফুটবল, বাস্কেটবল, ব্যাডমিন্টন ও জুডো খুবই জনপ্রিয়। বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক (Physical Education) ক্লাস খুবই গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়। এরা দলবদ্ধ খেলা করতে পছন্দ করে, যা তাদের সামাজিক দক্ষতা ও বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
দ্বিতীয়ত, অ্যানিমে ও কার্টুন শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেমন—‘ড্রাগন বল’, ‘পোকেমন’, ‘হ্যালো কিটি’ এবং ‘অ্যানিমেল ক্রসিং’। জাপানি শিশুরা শুধু দেখে আনন্দ পায় না, বিভিন্ন খেলনা ও স্টিকার কালেকশন করেও আনন্দ পায়।
খেলনা ও হস্তশিল্পও জাপানি শিশুদের পছন্দের মধ্যে পড়ে। রোবট খেলনা, লেগো এবং হ্যান্ডমেড ক্রিয়েশন শিশুদের কল্পনাশক্তি বাড়ায়। পরিবার ও বিদ্যালয় মিলিতভাবে এ ধরনের সৃজনশীল কার্যক্রম উৎসাহিত করে।
প্রকৃতির প্রতি শিশুদের ভালোবাসাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জাপানের শিশুরা বাগান করা, ফুল চাষ করা, মাছ ধরার মতো প্রাকৃতিক কার্যক্রমে আগ্রহী। স্কুলে বার্ষিক ‘হানামি’ বা ফুল দেখার দিনেও শিশুরা উৎসাহীভাবে অংশ নেয়।
অবশেষে, খাবারের প্রতি আকর্ষণও চোখে পড়ে। শিশুদের মধ্যে সুশি, রামেন, অংকমানি (ডিমসহ) রাইস বোল, মিষ্টি ও ফলের প্রতি বিশেষ ভালোবাসা দেখা যায়।
সংক্ষেপে, জাপানি শিশুদের জীবনকে ঘিরে আছে খেলা, অ্যানিমে, সৃজনশীলতা, প্রকৃতি এবং সুস্বাদু খাবার। এসবের মাধ্যমে তারা কল্পনাশক্তি, সামাজিক দক্ষতা এবং আনন্দ উপভোগ করতে শেখে।