বাংলাদেশে এখনো শিশু ও কিশোরদের মধ্যে রিউম্যাটিক জ্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণ গলাব্যথা বা টনসিলের সংক্রমণকে আমরা অনেক সময় তুচ্ছ মনে করি। কিন্তু যথাযথ চিকিৎসা না হলে এই সংক্রমণ থেকেই হতে পারে রিউম্যাটিক জ্বর, যা পরে স্থায়ী হৃদরোগে (রিউম্যাটিক হার্ট ডিজিজ) রূপ নিতে পারে।
কীভাবে হয়
গ্রুপ ‘এ’ বিটা-হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস নামের জীবাণু গলায় সংক্রমণ ঘটায়। সংক্রমণের দু-তিন সপ্তাহ পর শরীরের প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজেরই হৃদপিণ্ড, জয়েন্ট, ত্বক বা স্নায়ুতন্ত্রে আক্রমণ করে। এটাই রিউম্যাটিক জ্বর।
লক্ষণ কী
সবচেয়ে ভয়ংকর জটিলতা হলো হৃদপিণ্ডের ভালভ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, যা আজীবন সমস্যা তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসার মূল ভিত্তি তিনটি
১. জীবাণু নির্মূল করা
রোগ নির্ণয়ের সঙ্গে সঙ্গেই ইনজেকশন বেঞ্জাথিন পেনিসিলিন জি একবার গভীর পেশিতে দিতে হয়।
একবারের ইনজেকশনই যথেষ্ট। পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে বিকল্প অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়।
২. প্রদাহ কমানো
জয়েন্টের ব্যথা থাকলে উচ্চমাত্রার অ্যাসপিরিন দেওয়া হয়।
হৃদযন্ত্রে প্রদাহ বা হার্ট ফেইলিউর থাকলে কর্টিকোস্টেরয়েড প্রয়োজন হতে পারে।
সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপসর্গ দ্রুত কমে যায়।
৩. পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ
রিউম্যাটিক জ্বর একবার হলে আবার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই প্রতি তিন-চার সপ্তাহ অন্তর বেঞ্জাথিন পেনিসিলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
বাংলাদেশের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশে অনেক সময় প্রতি তিন সপ্তাহে ইনজেকশন দেওয়া উত্তম।
কেন সচেতনতা জরুরি
আমাদের দেশে এখনো অনেক শিশু অপচিকিৎসা বা চিকিৎসাহীন গলাব্যথার কারণে পরে হার্টের ভালভ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। অথচ সময়মতো সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক নিলে এই রোগ পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য।
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ
রিউম্যাটিক জ্বর প্রতিরোধ করা সম্ভবÑশুধু প্রয়োজন সচেতনতা, সময়মতো চিকিৎসা এবং নিয়মিত ফলোআপ। আজকের সামান্য অবহেলা যেন আগামী দিনের স্থায়ী হৃদরোগে রূপ না নেয়।
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি বিভাগ, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ