দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার অর্ধেকের বেশি বাড়লেও ব্যবহারকারীদের কারিগরি দক্ষতা ও ব্যবহারের ধরনে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা ও বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। দেশের ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও তাদের বড় অংশের ডিজিটাল দক্ষতা কেবল ‘কপি-পেস্ট’ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ ও প্রসারে শহর এবং গ্রামের মধ্যে এখনো রয়ে গেছে ৩২ শতাংশের বেশি ব্যবধান।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিবিএস কার্যালয়ে প্রকাশিত ‘আইসিটি ব্যবহারের সুযোগ ও প্রয়োগ পরিমাপ’ শীর্ষক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে বড় ব্যবধান বিদ্যমান। শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ হলেও গ্রামে তা মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ দুই অঞ্চলের মধ্যে ব্যবহারের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ। ভৌগোলিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ইন্টারনেটের প্রবেশাধিকার সবচেয়ে বেশি হলেও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা। একইভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের দিক থেকেও ঢাকার পরিবারগুলো এগিয়ে থাকলেও সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও। দেশের ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন এবং নিজস্ব মোবাইল রয়েছে ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশের। তবে কম্পিউটার ব্যবহারের হার এখনও অত্যন্ত সীমিত, যা মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ।
ইন্টারনেট ব্যবহারের উদ্দেশ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন মাসে ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারি চাকরির তথ্য খুঁজেছেন। এছাড়া ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ব্যবহারকারী খেলাধুলা সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান করেছেন এবং অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন মাত্র ১১ দশমিক ৬ শতাংশ গ্রাহক। ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে জরিপে কিছু ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিকই ফুটে উঠেছে। ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী সাইবার আক্রমণের পর ব্যবস্থা নিতে সক্ষম বলে জানালেও ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ভাইরাস ও ম্যালওয়্যারকে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
এদিকে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য। এছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত দামের কারণে তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে আগ্রহী নন বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এএস