হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশের সীমাবদ্ধতা

মিনহাজ আবরার ইনতিসার

বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি শুধু একটি খাত নয়, বরং একটি দেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অবস্থান নির্ধারণের প্রধান শক্তি। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো—এই অগ্রযাত্রার মধ্যেই রয়েছে কিছু বড় সীমাবদ্ধতা, যা দেশটিকে কাঙ্ক্ষিত উচ্চতায় পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করলেও দক্ষতার দিক থেকে বড় ঘাটতি দেখা যায়। তাত্ত্বিক জ্ঞানের তুলনায় ব্যবহারিক দক্ষতা কম হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষাব্যবস্থার পুরোনো সিলেবাস ও শিল্প ক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে যে ফাঁক রয়েছে, তা এ সমস্যাকে আরো গভীর করেছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও দেশের অনেক অঞ্চলে এখনো মানসম্মত ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিত করা যায়নি। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ কম হওয়ায় বাংলাদেশ নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে। নীতিগত পরিকল্পনা থাকলেও তার কার্যকর বাস্তবায়নের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান বুঝতে হলে পাশের দেশগুলোর দিকে তাকানো জরুরি। ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম বড় IT সেবা প্রদানকারী দেশ, যেখানে Tata Consultancy Services ও Infosys বিশ্ববাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। পাকিস্তান ফ্রিল্যান্সিং ও সফটওয়্যার রপ্তানিতে এগিয়ে যাচ্ছে, আর শ্রীলঙ্কা ও নেপাল নির্দিষ্ট কৌশলে IT খাতে অগ্রগতি অর্জন করছে। এই তুলনা থেকে স্পষ্ট হয়, সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি।

তথ্যপ্রযুক্তির গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সামরিক শক্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ আর শুধু অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং ইসরাইল এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের সামরিক সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এই খাতের উন্নয়ন জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং শিল্প খাতের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডেটা সায়েন্সের মতো আধুনিক কোর্স চালু করা জরুরি। স্টার্টআপ উৎসাহ, গবেষণায় বিনিয়োগ, দ্রুত ইন্টারনেট এবং প্রযুক্তির বিস্তারও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নীতি প্রণয়ন নয়, বরং তার কার্যকর বাস্তবায়ন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ছাড়া সম্ভব নয় এই খাতের টেকসই উন্নয়ন।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এখনো সম্ভাবনাময়। সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পারলে এ খাতই দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

অনলাইন প্রতারণা

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ

পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারে করণীয়

‘স্পার্ক ৫০’ এখন দেশের বাজারে

স্মার্টফোনে এআই ম্যাজিক ল্যান্ডস্কেপ

স্মার্টফোন কম ব্যবহারেই ফিরতে পারে মনোযোগ

এআইয়ের ব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে চিন্তাশক্তি কমিয়ে দিচ্ছে

দেশের আকাশে দেখা যাবে লাইরিড উল্কাপাত

এখন বন্ধ করা যাবে ইউটিউবের ‘শর্টস’ ফিচার

গ্রাম-শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে: জরিপ