ছোট্ট একটি শব্দ ‘মা’, অথচ লুকিয়ে আছে অসীম অনুভূতি ও ত্যাগের ইতিহাস। গর্ভধারণ থেকে শুরু করে লালনপালন—প্রতিটি ধাপে সন্তানের পাশে তিনি নিরলসভাবে থাকেন। সন্তানের সুখ, দুঃখ কিংবা সাফল্যের প্রতিটি মুহূর্তে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হয়ে ওঠেন মা। মায়েদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে প্রতিবছর মে মাসের দ্বিতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘মা দিবস’।
নিঃস্বার্থ শ্রম ও অফুরন্ত ভালোবাসার নাম মা
‘মা’ শব্দটি একরাশ অনুভূতির নাম। সন্তান গর্ভধারণের পর থেকে সন্তানের বেড়ে ওঠার পুঙ্খানুপুঙ্খ সাক্ষী শুধু তার মা। একজন মায়ের ত্যাগ-তিতিক্ষার তুলনা দুনিয়ার কোনো কিছুর সঙ্গে হয় না। মাকে জড়িয়েই দুঃখ, আবেগ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। পৃথিবীর প্রতিটি সম্পর্কের শুরু হয় মায়ের হাত ধরে। তার বুকের উষ্ণতায় জাগে জীবনের প্রথম স্বপ্ন, তার চোখের আলোয় জ্বলে সন্তানের প্রথম আশা।
একজন মা যেন এক অশেষ ধৈর্যের প্রতিমূর্তি। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে সন্তানকে দেন অমৃত ভালোবাসা। সন্তান ক্ষুধার্ত হলে মা নিজে না খেয়ে খাওয়ান, সন্তান অসুস্থ হলে নির্ঘুম রাত কাটান। তার হৃদয়ে নিজের জন্য কোনো স্বপ্ন নেই, সব স্বপ্নই যেন সন্তানের ভবিষ্যৎকে ঘিরে। মায়ের স্নেহ এমন এক আশ্রয়, যেখানে ফিরে এলে জীবনের সব ঝড় থেমে যায়। মায়ের অবদানের কথা লিখতে গেলে যেন এক আকাশ পরিমাণ শব্দও কম হবে। তাই কোনো বিশেষ দিনে নয়, মা তো প্রতিদিনই শ্রেষ্ঠ, প্রতিটি মুহূর্তেই অমূল্য।
আফরিদা ইসলাম
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
ইডেন মহিলা কলেজ
পরিবার পরিচালনায় প্রধান সঞ্চালক মা
একটি পরিবারের ভিত গড়ে ওঠে মূলত মাকে কেন্দ্র করেই। শুধু গৃহস্থালির কাজেই নয়, মা পরিবারের মানসিক শক্তির উৎস এবং সঠিকভাবে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে ধারক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মা সঠিকভাবে পরিবার পরিচালনা না করলে একটি পরিবার যতই অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হোক না কেন, তা ঠিকভাবে পরিচালিত হবে না। কোনো না কোনো দিক থেকে অপূর্ণতা থেকেই যাবে। এজন্য একজন মায়ের শিক্ষিত হওয়া প্রয়োজন।
বিপদের সময়ে মা যেমন সাহস জোগান, সমস্যা সমাধানের পথ দেখান, তেমনি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা ও বন্ধন অটুট রাখেন। আবার পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্যের সময় তিনি সুসময়ের অংশীদার হন। দুঃখের সময়ে মা যেমন পথপ্রদর্শক হিসেবে থাকেন, তেমনি সুখের সময়েও মাকে প্রয়োজন। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত তিনি পরিবারের প্রতিটি সদস্যের প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখেন। দায়িত্ব, ত্যাগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার এক জীবন্ত উদাহরণ মা। সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যগত দিক, শিক্ষাগত দিক, অর্থনৈতিক দিকসহ সবকিছুতেই মায়েরা নিরলস দায়িত্ব পালন করেন। এজন্য মায়ের অবদান প্রতিটি পরিবারে অমূল্য।
আফিয়া আলম
শিক্ষার্থী, সমাজকল্যাণ বিভাগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
বার্ধক্যে মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ
প্রতিটি সন্তানের কাছে সবচেয়ে আপন মানুষ হচ্ছেন তার মা। নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে তিনি সন্তানকে বড় করে তোলেন, আগলে রাখেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই শক্ত মাও একসময় দুর্বল হয়ে পড়েন। বয়স বাড়ার সঙ্গে তার প্রয়োজন হয়ে ওঠে সন্তানের যত্ন, ভালোবাসা ও সঙ্গ। বার্ধক্যে একজন মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব কেবল খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা করায় সীমাবদ্ধ নয়; তার চিকিৎসা, নিয়মিত যত্ন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তার পাশে থাকা, সময় দেওয়া, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাকে কখনো একা মনে করতে না দেওয়া। কারণ এই সময় মায়েদের শারীরিক স্বাস্থ্যের চেয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বেশি নাজুক থাকে।
অনেক সময় আমরা ব্যস্ততার কারণে মাকে সময় দিতে পারি না। কিন্তু যিনি আমাদের জন্য এতকিছু করেছেন এবং প্রতিনিয়ত করে চলেছেন, তার জন্য সময় বের করা আমাদের কর্তব্য। মায়ের মুখে হাসি ফোটানোই একজন সন্তানের বড় অর্জন। তাই আমাদের উচিত মায়ের সঙ্গে হাসিখুশি থাকা, মাকে সম্মান করা, ভালোবাসা এবং তার পাশে থাকা। কারণ ‘মা’ শুধু একটি শব্দই নয়; তিনি আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়।
আফিয়া সুলতানা আঁখি
অর্থনীতি বিভাগ, ইডেন মহিলা কলেজ