হোম > ফিচার > তারুণ্য

এক চোখে দেখা স্বপ্ন

ফাহমিদুর রহমান ফাহিম, রাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন’স কমপ্লেক্সের শান্ত ছায়ায় বইয়ের পসরা নিয়ে বসেন এক তরুণ। পুরোনো আর নতুন বইয়ের মাঝে এক আলোর ভুবন গড়েছেন মো. মাহবুব আলম। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র মাহবুব। ২০০৮ সালের এক দুর্ঘটনায় তিনি একটি চোখ হারান। এক চোখের আলো নিভে গেলেও মনের আলো তাকে এক নতুন জগৎ দেখিয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এই চত্বর মুখরিত থাকে তার বই বেচা আর বইআড্ডায়।

মাহবুব আলম রাজশাহীর মেহেরচন্ডী বুধপাড়ার বাসিন্দা। পরিবারে আছে এক ভাই, এক বোন ও বাবা-মা। মাহবুব সবার ছোট। ২০২২ সালের মার্চ মাসের ২২ তারিখ থেকে মাহবুব বই নিয়ে কাজ শুরু করেন। ক্লাসের ফাঁকে অথবা ছুটির দিনগুলোয় ডিন’স কমপ্লেক্সের পেছনে তার অস্থায়ী দোকানে ভিড় করেন বইপ্রেমীরা। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের প্রতি তার গভীর টান। স্কুলের লাইব্রেরি থেকে জেলা লাইব্রেরি পর্যন্ত ছিল তার নিয়মিত যাতায়াত।

মাহবুব জানান, পুরোনো বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ তাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। শুরুতে বিভিন্ন জায়গা থেকে পুরোনো বই সংগ্রহ করে অনলাইনে বিক্রি শুরু করেন। অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়ে উৎসাহের সঙ্গে এই কাজ চালিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বই বিক্রিকে উপার্জনের একটি উৎস হিসেবে দেখেন মাহবুব। বিভিন্ন জায়গা থেকে বই সংগ্রহ করে কম দামে বিক্রি করার ভাবনা তার। এটি একদিকে যেমন ছাত্রদের জন্য সহায়ক, তার চলার মাধ্যমও।

শুধু বই বিক্রিই নয়, মাহবুবের রয়েছে একটি ছোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান—‘বর্ণশুদ্ধ প্রকাশনা’। এই প্রকাশনা থেকে তার প্রথম দুটি বই— একটি যৌথ কবিতার বই ও একটি গল্পের বই বের হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রকাশনা নিয়েই কাজ করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। এবারের বইমেলায় বেরিয়েছে তার নতুন বই—‘ফিলিস্তিনে শিশু বন্দি ও নির্যাতন’।

তবে এই স্বপ্নযাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক সংকট। মাহবুব অকপটে বলেন, ‘বইগুলো সংগ্রহ করতে তো টাকার দরকার। অনেক ছোট ও বড় ভাইয়েরা বিভিন্ন বইয়ের খোঁজ করেন। আমার কাছে যদি পর্যাপ্ত টাকা থাকত, আমি সেই বইগুলো স্টক করে রাখতে পারতাম। সবার চাহিদা পূরণ করতে পারতাম।’

তবে বন্ধুরা তার এই উদ্যোগকে সমর্থন জুগিয়েছে। এক বন্ধু এক বছর তার সঙ্গে এই কাজেও সহযোগিতা করেছে। পরবর্তী সময়ে চাকরির সন্ধানে সে দূরে গেলেও অন্যদের সমর্থন আজও অটুট আছে। মাহবুবের এই কর্মোদ্যোগ তাদের মাঝেও এক ধরনের অনুপ্রেরণা জোগায়। অনেকেই তার কাছ থেকে বই নিয়ে পড়তে আগ্রহী। পরিবারও মাহবুবের এই প্রচেষ্টাকে সম্মান জানায়। নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করতে পারায় তারা খুশি। মাহবুব সাধারণত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন না। তার এই স্বনির্ভরতা পরিবারের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। প্রতিদিন এক থেকে দুই হাজার টাকার বই বিক্রি হয় তার। এই টাকায় দৈনন্দিন খরচ ঠিকমতো চলে যায় তার।

এক চোখে স্বপ্ন আর বুকে সাহিত্যের উদ্যম নিয়ে এগিয়ে চলা মাহবুব আলম আজ অনেক শিক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণা। বই নিয়ে তার এই নিরলস পথচলা শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রাম নয়, জ্ঞান ও সাহিত্যের প্রতি এক অদম্য ভালোবাসার প্রকাশ ও প্রতিজ্ঞা।

উপকূল-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার গল্প

শীতের রিক্ততা মুছে এসে গেছে বসন্ত

যেভাবে রাজনীতির লাইমলাইটে ওসমান হাদি

নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে বা ভোট দিতে পারবেন না

সদ্য সমাপ্ত নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতা : বহুমাত্রিক বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন

বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু

‘কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ শিখতে জাপানে

উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের প্ল্যাটফর্ম

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বেচ্ছায় রক্তদান

ডাকসু ঘিরে বিদ্বেষ বিভাজন ও অপরায়নের রাজনীতি