হোম > ফিচার > তারুণ্য

মৃত্যু উপত্যকায় ‘প্রজেক্ট লাইফলাইন ফর গাজা’

মাহমুদ দারবিশ চৌধুরী

রাত পেরিয়ে সূর্যালোকের কোমল কিরণ আর পাখির কিচিরমিচির শব্দে একরাশ সন্তোষ নিয়ে যখন আমাদের ঘুম ভাঙে, তখন বোমা আর বুলেটের বিকট শব্দে ধড়ফড় করে জেগে ওঠে গাজার বাসিন্দারা। বিশ্ববাসী যখন আমোদ-প্রমোদে লিপ্ত, গাজাবাসী তখন জীবন বাঁচানোর তাগিদে এপার থেকে ওপারে ছোটাছুটিতে ব্যস্ত। বিশ্বসভ্যতা যখন বাহারি রকম খাবারদাবার আর বিলাসিতায় মত্ত, তারা তখন মৃত্যুপুরীর মাঝখানে হেঁটে চলেছে প্রাণরক্ষার দাবি নিয়ে। আমরা যখন ঈদুল আজহার প্রহর গুনছি, তখন তারা গুনছে মৃত্যুর প্রহর। বিকট গুলির শব্দ, রক্তে মাখা রাস্তা, ইসরাইলি বোমার প্রভাবে সাজানো-গোছানো বাড়িঘরের হঠাৎ ধসে যাওয়া, সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর জান্নাতি মুখচ্ছবিতে রক্তের ছাপ, বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ—এসব যেন গাজা উপত্যকার নিত্যদিনের ঘটনা। আখেরাতের নরকযন্ত্রণা যেন পৃথিবীর বুকে নেমে এসেছে। এ যেন গাজা উপত্যকা নয়, মৃত্যু-উপত্যকা। পিশাচবাহিনীর হিংস্র আক্রমণে একটি পরিপাটি শহর কীভাবে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়, তা পৃথিবীবাসী প্রত্যক্ষ করেছে।

বিশ্বমানবতা কি এ জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে? অত্যাচারীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মজলুমের পাশে দাঁড়াতে পেরেছে? যুগ যুগ ধরে চলে আসা নরকযন্ত্রণা থেকে গাজাবাসীকে মুক্তি দিতে আমাদের কোনো প্রচেষ্টা আছে? আমরা নির্লজ্জের মতো দর্শক আর নির্বাক সাক্ষীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছি। জুলুম দেখে দেখে আমরা এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। ইসরাইলের নিষ্ঠুরতা আমাদের গায়ে আর কাঁটা দেয় না।

গাজা প্রসঙ্গে যখন গোটা পৃথিবী নির্বাক চলচ্চিত্রের ভূমিকায়, তখন কতিপয় মানুষ উঠে দাঁড়িয়েছেন, কথা বলেছেন গাজার পক্ষে; কলম চালিয়েছেন আর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্বমানবতার হয়ে মজলুমের পক্ষে। নিপীড়িত অধিবাসীদের পাশে দাঁড়ানো তেমনি এক উদ্যোগের নাম ‘প্রজেক্ট লাইফলাইন ফর গাজা’। এটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রজেক্ট। ‘জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি হিউম্যান রাইটস সোসাইটি’র উদ্যোগে পরিচালিত ওই প্রজেক্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা সংগ্রহ করে গাজায় পৌঁছে দেন উদ্যোক্তারা। এতে গাজার প্রায় ২০০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। খাদ্যপ্যাকেটগুলো বিশেষ করে গাজার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিতরণ করা হয়। এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় উত্তর গাজার বাইত হানুন থেকে পালিয়ে আসা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোকে।

ওই প্রজেক্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের আটজন শিক্ষার্থী। তারা হলেন—নওশীন নাওয়ার জয়া ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম (প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান), আম্মার বিন আসাদ (নৃবিজ্ঞান), জুনায়েদ মাসুদ (শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট), তানজিলা সুলতানা তানি, সিফাত হাসান সাকিব ও উম্মে হাবিবা (ইংরেজি বিভাগ) এবং ওমর ফারুক শ্রাবণ (আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট)।

‘প্রজেক্ট লাইফলাইন ফর গাজা’র প্রধান উদ্যোক্তা ও ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)’-এর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার জয়া বলেন, ‘মানবতার প্রশ্নে মানুষ কতটুকু বিবেক, সহমর্মিতা ও মনুষ্যত্বের পরিচয় দিতে পারছে, তার এক নির্মম লিটমাস টেস্ট যেন গাজা। অধিকার, স্বাধীনতা ও দেশাত্মবোধের পক্ষে গাজার নিপীড়িত মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রতিরোধ আজ পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে মুক্তি ও মানবতার প্রতিধ্বনি হয়ে উঠেছে। মানুষ হিসেবে এই সংগ্রামের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করাই ছিল আমাদের এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য। মানবতার পক্ষে গাজার ভাইবোনদের পাশে দাঁড়ানোর এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমরা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে চাই।’

উদ্যোক্তারা ওই প্রজেক্টের মাধ্যমে আরো বড় পরিসরে গাজাবাসীর জন্য সহায়তামূলক কার্যক্রমের ইচ্ছা ও পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেছেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশবাসীর প্রশংসা ও ভালোবাসা কুড়িয়েছেন তারা।

গাজার আকাশে আজ আর সূর্যালোকের মধ্য দিয়ে ভোর নামে না; নামে শুধু ধোঁয়া, বারুদের গন্ধ আর শিশুদের কান্নার মধ্য দিয়ে। যে ভূখণ্ড একসময় আজানের ধ্বনি, শিশুদের হাসি আর পারিবারিক উষ্ণতায় মুখর ছিল, আজ তার প্রতিটি বালুকণা মৃত্যুর সাক্ষী। বিশ্বমানচিত্রে গাজা যেন এক ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ের নাম, যেখানে প্রতিদিন মানবতার লাশ কাঁধে নিয়ে সূর্য অস্ত যায়। গাজার জন্য আমাদের প্রার্থনা—জালিমের খড়্‌গ তাদের কাঁধ থেকে নেমে গিয়ে আগের জৌলুসে ফিরে আসুক মুসলিমদের এই ভূমি। এ বসুধার আর কোনো ভূখণ্ড গাজা না হোক, এও আমাদের প্রত্যাশা। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা ফিতনা থেকে সাবধান হও, যা শুধু জালিমদের গায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তা সবার ওপর এসে পড়বে।’ (সুরা আল-আনফাল : ২৫)

আজারবাইজান যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড লিংকআপের প্রতিনিধিদল

জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি সংরক্ষণের লড়াই

মডেল ক্যাম্পাসের স্বপ্ন নিয়ে গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন

শাপলা শহীদদের পাশে শাপলা স্মৃতি সংসদ

‘প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিবেশের ক্যানসার’

জুলাই মেমোরিজ বিস্মৃতির বিরুদ্ধে এক ডিজিটাল আর্কাইভ

শ্রমের দামে বোনা জীবনের স্বপ্ন

ভিন্নধারার বৈশাখ

উপকূল-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার গল্প

এক চোখে দেখা স্বপ্ন