হোম > সাহিত্য সাময়িকী > কবিতা

স্ট্রবেরি

আবু এনএম ওয়াহিদ

আজ সকালে কলের পানিতে পরিষ্কার করতে গিয়ে

একটি স্ট্রবেরি হাতে তুলে ধরলাম—

সে তাকিয়ে আছে আমার দিকে,

আমি তাকিয়ে আছি তার দিকে।

দুজনের চোখে একই প্রশ্ন—

এই মুহূর্তে কে বেশি আশ্চর্য?

তার মাথার চারপাশে ছোট ছোট সবুজ পাতা—

দশটি, কি বারোটি, গুনিনি ঠিকমতো—

মুকুটের মতো, নাকি নেকলেসের মতো,

নাকি কোনো রাজ্যহীন রাজার শেষ অহংকারের মতো।

স্ট্রবেরি বলল না কিছু। সে খুব কম কথা বলে।

এটাই তার দার্শনিক বৈশিষ্ট্য—

যে সত্যিই পাকা, সে চুপ করে থাকে। আমি অনেক

মানুষ দেখেছি যারা মুকুট পরে বুক ফুলিয়ে হাঁটে,

অথচ ভেতরে টক—

স্ট্রবেরির মতো নয়, লেবুর মতো, কিন্তু লেবুর সততাটুকুও

তাদের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় না। স্ট্রবেরি কিন্তু সৎ।

বাইরে লাল, ভেতরেও তাই। মিষ্টি-টক দুটোই স্বীকার করে নেয়—

কোনো ক্ষমা না চেয়ে। এই সাহস ক’জনের আছে?

সবুজ পাতাগুলো বলছে—

আমরা ছিলাম গাছের সাথে, এখনো ছাড়িনি।

মানুষ শিকড় ছেড়ে দেয় এত সহজে,

স্ট্রবেরি দেয় না।

সে মরে গেলেও মুকুট পরা থাকে।

রূপকথায় রাজকন্যারা মুকুট পরে সিংহাসনে বসে।

স্ট্রবেরি মুকুট পরে আমার মুঠোয় বসে আছে—

এবং রাজকন্যার চেয়ে বেশি নিশ্চিত জানে

তার পরিণতি কী। তবু সে বিষণ্ণ নয়।

বিষণ্ণতা তাদের জন্য, যারা জানে না

কোথায় যাবে। স্ট্রবেরি জানে—

সে যাবে আমার মুখে, তারপর কোথাও একটা মিলিয়ে যাবে,

যেমন সব সুন্দর জিনিস যায়। আমি আর দেরি করলাম না।

দার্শনিক আলোচনার একটা সীমা থাকা উচিত—

খেয়ে ফেললাম।

সবুজ মুকুট বলো অথবা গলার হার বলো—

থালার পাতা থালায়ই পড়ে রইল, ছোট্ট সবুজ নক্ষত্রের মতো,

কোনো রাজ্য নেই যার,

কোনো রাজাও নেই, শুধু আছে একটা স্মৃতি—

যে একদিন কারো মাথায় ছিল—

যে ছিল লাল, ছিল সুন্দর,

এবং নিজেকে অকাতরে বিলিয়ে দিতে জানত—

একটুও না কেঁদে।

জীবনানন্দের বনলতা সেনও হয়তো এমনই ছিল।

শুধু তাকে কেউ খায়নি।

তুমি দেশি কবিতা

কফি কাপ

রাস্তাকাবারি

নসিব

সীমান্তের শকুন

সে কথা আজও বাতাসে ভাসে

প্রিয় হাদি

সবাই এবার হাদি হবো

শহীদ ওসমান হাদির লেখা সেই বিখ্যাত কবিতা

ইতিহাস