রাতের আঁধার, হাহাকার শুধু, পথ পাই না খুঁজে
গর্জায় পশু, ভয় দস্যুর, কখন যাবে ঘুঁচে?
আসছে ঝড়, বাজ কড়কড়, হৃদয় কেঁপে ওঠে
কোথায় হারালো যোদ্ধার দল, শঙ্কা গিয়েছে টুটে?
আছে কুফফার, আছে মুরতাদ, আছে মুনাফিক সেনা
পাই না দিশা, জ্বালি না আলো, আমরা গোলাম কেনা।
আমিরও নেই, খলিফাও নেই, কোথা আলেমের দল
বুঝি না তো দ্বীন, লড়ব কীসে, নেই ঈমানের বল!
শত্রুরা আজ মাথাচাড়া, তাই সামলাব কীসে জানি না
জ্বলছে আগুন, মরছে মানুষ, হিসেবটাও তো রাখি না।
অল্প কজন, দাঁড়িয়ে অনড়, বাকিরা কোথায় গেল?
দাবি করে সব, মুমিন তারা, ঈমানটা এলোমেলো।
ভাই মরছে, বোন মরছে, অত্যাচারিত সবাই
তবুও যেন কীসের বিভেদ, কীসের যেন বড়াই।
এ নয় মুমিন, ও হল কুকুর, ওরা ভরপুর ভুলে
বিভেদটা যে ঈমানের নয়, এক পতাকার তলে।
দাঁড়াও রুখে, গড়ো প্রতিরোধ, শাহাদাহ যেন লক্ষ্য
অস্ত্র ঈমান, আল্লাহ সাথে, তাজা বুকের রক্ত।
সংগ্রহ ও ভূমিকা : মুহিম মাহফুজ
৫ মে ভোর। এক বন্ধুকে নিয়ে বুয়েট থেকে বের হন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রেহান। গন্তব্য শাপলা চত্বর। সারা দিন মতিঝিল। শেষ রাতে শুরু হয় কথিত অপারেশন ফ্ল্যাশআউটের নামে ইতিহাসের বর্বর হত্যাকাণ্ড। শাপলা চত্বর হয়ে যায় মৃত্যুচত্বর। একটু আশ্রয়ের আশায় রেহান এগিয়ে যান ডানপাশের গলিতে। একটু পর গলি থেকে বেশ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে আসতে দেখা যায়। রেহানও ছিলেন তাদের মধ্যে—গুলিবিদ্ধি। নাকের পাশে লেগে গর্ত হয়ে মাথার পেছন দিকে বেরিয়ে গেছে বুলেট। তখনো ওপরের দিকে তাকিয়ে রেহান পড়ছিলেন—লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা পাঠান হাসপাতালে। পরদিন মা-বোন ঢাকা মেডিকেলের মর্গে পড়ে থাকতে দেখেন রেহানের লাশ।
সেই ভয়ানক সন্ধ্যায় শাপলা চত্বর থেকে রেহান মোবাইলে লেখেন এই কবিতা। ঘনিষ্ঠ বন্ধু মাইদুল ইসলাম মুনিমকে মেসেজ করে বলেন, ‘পারলে শেয়ার করো।’ শহীদ রেহান আহসানের এই কবিতা আমি যখন উদ্ধার করি, তিনি তখন কবরে শুয়ে আছেন। ১২ বছর পর প্রকাশিত হলো শাপলার কবি-শহীদের লেখা একমাত্র কবিতা। প্রথম প্রকাশ মাসিক রহমত, জুন ২০১৩।