রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ‘ফুয়েল লোডিং’ শুরু হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ৩৩তম দেশ হিসেবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ।
দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ খরচ, কবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে, গ্রিড সক্ষমতা ও সঞ্চালন লাইনের কাজ কতদূর?- এমন নানা প্রশ্ন সামনে আসছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে কত খরচ হলো?
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর একটি। রাশিয়ার কারিগরি সহায়তায় পাবনার রূপপুরে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, ২০১৭ সালে এর মূল নির্মাণ কাজ শুরু হয়।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এখানে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করেছে রাশিয়া।
এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ কাজ শুরুর জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে সাইটিং লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে কবে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলছেন, সাধারণত পাইলট অপারেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদনও শুরু হয়।
তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হতে আরও অন্তত ছয় মাস থেকে এক বছর সময় লাগবে।
তিনি বলেন, "পাইলট অপারেশনের সময় কিছু কিছু করে বিদ্যুৎ গ্রিডে যাবে। পাঁচ শতাংশ বা দশ শতাংশ হারে ক্ষমতা ব্যবহার করে পরীক্ষা চালানোর সময় ফুয়েল বার্ন হবে, যাতে একশ, দুইশ, আড়াইশো কেবি (কিলোবাইট) তো যাবে।"
সঞ্চালন লাইনের কী অবস্থা?
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য গ্রিড সক্ষমতা এবং সঞ্চালন লাইনের কাজ ২০২৫ সালের মে মাসেই শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান।
তিনি জানিয়েছেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে যে ১১শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে তার জন্য গ্রিডের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা আগেই সম্পন্ন করার হয়েছে।
"ইউনিট ওয়ানের জন্য আমাদের যে কয়টা লাইন দরকার সেগুলো গত বছরের ৩০শে মে'র মধ্যেই শেষ করে ফেলেছি। আমাদের চারটা লাইন রেডি হয়ে আছে তখন থেকেই," বলেন তিনি।
তিনি জানান, "রূপপুর-বাঘাবাড়ি দুটি সার্কিট, রূপপুর-বগুড়া একটি এবং রূপপুর-গোপালগঞ্জ একটি সার্কিট- এই চারটি রেডি আছে। যেগুলোর ক্যাপাসিটি চারশ মেগাওয়াট।"
সূত্র: বিবিসি বাংলা
এমপি