পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের শেষ নাগাদ ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিং করা সম্ভব হবে। রোসাটমের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ গত শুক্রবার পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে নিযুক্ত কর্মী ও প্রকৌশলীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হিসেবে জাতীয় বিদ্যুৎখাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের একটি মেগা প্রকল্প, যা রূপপুরে অবস্থিত এবং নির্মাণকাজ সব আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট রোসাটমের প্রকৌশলীরা জানান, আগামী ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মাসের শেষ নাগাদ ইউনিট-১-এ ফুয়েল লোডিং করা সম্ভব হবে।
এছাড়া মার্চ ২০২৬-এর শেষ দিকে ইউনিট-১ থেকে প্রায় ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরে ধাপে ধাপে প্রকল্পটির মাধ্যমে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট-১ থেকে কার্যকরভাবে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রকল্প পরিদর্শনকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প পরিচালক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।