হোম > জাতীয়

নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সক্রিয় হচ্ছে দুদক

আরিফুর রহমান

নতুন জনশক্তি নিয়োগের মধ্য দিয়ে সক্রিয় হতে চলেছে দেশের দুর্নীতি নিরোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অনেকটাই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল এই সংস্থাটি। থেমে ছিল চলমান স্বাভাবিক কার্যক্রমও। স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ থেকে পালাতে শুরু করে সেই সময়ে দুর্নীতিতে লিপ্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা। এখন তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। শুরু করেছে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান।

আগস্টের শুরুতে ২০০ জনকে অনুসন্ধানের আওতায় আনলেও পরে এ সংখ্যা বাড়তে থাকে। সম্প্রতি ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বে কমিশন গঠিত হওয়ার পর দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত গতি পায়। বিগত সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়া ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুদক।

দুদকের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, আমরা বিগত ১৫ বছর স্বাধীন ছিলাম না। আমাদের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়ে গিয়েছিল মাফিয়া সরকার। কোনো কাজ করতে পারিনি। যেখানেই কাজ করতে গিয়েছি সেখানেই ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে আমাদের সঙ্গে। আমরা বিশ্বাস করি এই অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের কাজ করার সুযোগ দেবেন। আমরা চাই দুর্নীতি মুক্ত দেশ হোক। আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান এবং কমিশনার সবাই আমাদের সুষ্ঠুভাবে কাজ করে যেতে সাহস দিচ্ছেন।

২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা ‘দুর্নীতি দমন ব্যুরো’ বিলুপ্ত করে প্রতিষ্ঠিত হয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। উদ্দেশ্য স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দমনের কাজ করে প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের শাস্তির আওতায় আনা। সেই লক্ষ্য নিয়ে দুদক চেয়ারম্যানসহ কমিশনারদের নিয়োগ, তাদের যোগ্যতা, অপসারণ, দুর্নীতির অনুসন্ধান কিংবা তদন্ত থেকে শুরু করে একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ প্রণয়ন করা হয়।

যেখানে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে কমিশনের হাতেই সব ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত দেওয়া, মামলা, আসামি গ্রেপ্তার, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক, ফ্রিজ, সংশ্লিষ্টদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি নীতিগত সব সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র কমিশনের। কিন্তু ২০২৪ সাল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত তা পুরোপুরি করা সম্ভব হয়নি।

দুদকের সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অনুসন্ধানগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে এক হাজারের অধিক ব্যক্তিকে অনুসন্ধানের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ঘুষগ্রহণ, সরকারি প্রকল্পে কারসাজিসহ দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে থেকে শুরু করে মন্ত্রী পর্যন্ত যারা ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অনিয়ম করেছেন দুর্নীতি করেছেন তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে দুদক চেয়ারম্যান তার সহযোগীদের নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানে চেয়ারম্যান নিজের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করেছেন স্বেচ্ছায়। চেয়ারম্যান বলেছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি যে প্রধানমন্ত্রীও পালিয়েছেন একই সঙ্গে বায়তুল মোকাররমের খতিবও পালিয়েছেন। রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। এই বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, দুদক তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এই স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের এই ১৫ বছর সঠিকভাবে কেউই কাজ করতে পারেনি। আমরা তা করে দেখাব। আমি যদি কোনো ভুল করি তা-ও দেখবেন। কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না। বিগত বছরগুলো নিয়ে নানা সমালোচনা আছে। আমি চাই নতুন কিছু করে দেখাতে। দুদক যার বিরুদ্ধে মামলা করবে আশা করি তার সঠিক বিচার হবে।

বিগত সময়ের কার্যক্রম

২০২১ সালের ৩ মার্চ দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের স্থলাভিষিক্ত হন মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি এর আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন। ওই সময় তার সঙ্গে জহুরুল হককে কমিশনার (তদন্ত) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দেড় বছর পর আছিয়া খাতুনকে ক‌মিশনার (অনুসন্ধান) মোজাম্মেল হক খানের স্থলে নিয়োগ পান।

২০১৩ সালের ১৯ জুন দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘ছোটখাটো কিছু সফলতা থাকলেও বিস্তৃত পরিধিতে আমি নিজেকে সফল মনে করছি না। আমার চার বছরেও আমি দুদকের আইন সংশোধন করতে পারিনি। নিজের চার বছরে আলোচিত কয়েকটি মামলা ও সেগুলোর আইনি প্রক্রিয়ায় ধীরগতির সমালোচনা করেন।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের স্মরণীয় বছর ছিল ‘২০০৭-২০০৮’ সাল। ‘সামরিক বাহিনী-সমর্থিত’ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হাসান মশহুদ চৌধুরী। তার নেতৃত্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন যে প্রবল গতিশীলতা অর্জন করেছিল। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুর্নীতিবাজ, ‘পুঁজি-লুটেরা’ রাজনীতিক ও ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙা এবং দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল।

দুদকের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল আব্দুল মতিনের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী শক্তিশালী টাস্কফোর্স কমিটিও রাজনীতিবিদ এবং রাঘববোয়াল ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রবল ত্রাসের সঞ্চার হয়েছিল। যৌথবাহিনীর আতঙ্কে ছিল অপরাধীরা। এ সময় গঠিত হয় ট্রুথ কমিশন। দুর্নীতিবাজদের ক্ষমা করতে ২০১১ সালের ১৬ মে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ট্রুথ কমিশনকে সংবিধান পরিপন্থি বলে রায় দেন। রায়ে বলা হয়েছিল, সত্য ও জবাবদিহি কমিশন বা ট্রুথ কমিশন সংবিধান পরিপন্থি। এই রায় ঘোষণার পর বিলুপ্ত হয় ট্রুথ কমিশন।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, ক্ষমতা কখনও চিরস্থায়ী না। যখন যে দায়িত্বে আসেন তার উচিত দেশের জন্য কিছু করা। অন্য দিকে বলতে গেলে ‘আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলে’ সরকারি-বেসরকারি-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজ নিজ আইনি কাঠামো পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগ অনুসন্ধান কার্যকর করা একান্তই কাম্য। বর্তমান চেয়ারম্যানও সেই কাজ করবেন। দুদক জনগণের সার্বিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ব্রতই হোক সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রধান উদ্যোগ।

ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা সরকারের

ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবার পাবে ২৫০০ টাকা

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর রাখতে হবে: ত্রাণমন্ত্রী

পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের পর নানা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল

প্রথম বিদেশ সফরে সৌদি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজধানীকে সন্ত্রাসমুক্ত করার ঘোষণা দুই প্রশাসকের

দুদকের ২৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে একযোগে বদলি

তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সতর্কতা

বন্ধ শ্রমবাজার চালু করা সরকারের অগ্রাধিকার