হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি : দাপটের মোহে বিপন্ন ভবিষ্যৎ

ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন

সমাজের নীরব অলিগলি থেকে শুরু করে নগরের ব্যস্ত সড়ক—সবখানেই আজ এক নতুন উদ্বেগের নাম শোনা যায় : কিশোর গ্যাং। অল্পবয়সি কিছু ছেলে, কখনো মেয়ে, দলবদ্ধ হয়ে নিজেদের মধ্যে এক ধরনের আধিপত্য ও ক্ষমতার বলয় তৈরি করছে। তাদের আচরণে দৃশ্যমান হচ্ছে আগ্রাসন, ভাষায় উগ্রতা আর কর্মকাণ্ডে সহিংসতার ছাপ। এই প্রবণতা শুধু বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার সমষ্টি নয়; এটি আমাদের সামাজিক বাস্তবতার এক গভীর সংকটের প্রতিফলন। এটি শুধু কয়েকজন বখে যাওয়া তরুণের গল্প নয়; এটি একটি গভীর সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নীরবে গ্রাস করছে।

কিশোর বয়স এমন একসময়, যখন একজন মানুষের চিন্তা-চেতনা, মূল্যবোধ ও ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি গড়ে ওঠে। অথচ এ গুরুত্বপূর্ণ সময়েই অনেক কিশোর ভুল পথে পা বাড়াচ্ছে। গ্যাং সংস্কৃতির মোহে তারা ভাবছে—দাপটই শক্তি, ভয় সৃষ্টি করাই সাফল্য। কিন্তু এই বাহ্যিক শক্তির আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক ধরনের মানসিক শূন্যতা, অবহেলার বেদনা এবং স্বীকৃতির আকাঙ্ক্ষা।

রাজধানীতে আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। প্রতিদিনের সংবাদে ছিনতাই, কুপিয়ে হত্যা, চাঁদাবাজি কিংবা ইভটিজিংয়ের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে কিশোররা—যে বয়সে তাদের বই-খাতা হাতে স্বপ্ন গড়ার কথা, সেই বয়সেই তারা অপরাধের অন্ধকার গলিতে হারিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক একটি ঘটনা এ সংকটের ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এলেক্স গ্রুপের প্রধান ইমন হোসেন ওরফে এলেক্স ইমনকে প্রতিপক্ষ গ্যাং সদস্যরা নির্মমভাবে হত্যা করে। একটি ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে এলেক্স গ্রুপ এবং আরমান-শাহরুখ গ্রুপের দ্বন্দ্ব শেষ পর্যন্ত রক্তপাতের দিকে গড়ায়। এ ঘটনা প্রমাণ করে—তুচ্ছ কারণও এখন ভয়াবহ সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে, যেখানে মানবজীবনের মূল্য ক্রমেই তুচ্ছ হয়ে পড়ছে।

চট্টগ্রামের হৃদয়ে ঘটে যাওয়া এক নির্মম ঘটনা যেন আমাদের সমাজের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতার ভয়াবহ রূপ আবার প্রকাশ পেয়েছে নিরীহ এক তরুণের করুণ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। গত ১২ এপ্রিল ২০২৬, চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকার মৌসুমি আবাসিক এলাকায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আশফাক কবির সাজিদ (১৭) নামের এক কলেজছাত্রকে।

সাজিদ ছিল বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী—স্বপ্নবাজ, সম্ভাবনাময় এক তরুণ। কিন্তু সেই স্বপ্ন নির্মমভাবে থেমে যায় একদল কিশোর গ্যাং সদস্যের সহিংসতায়।

ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা প্রথমে সাজিদকে মারধর করে এবং তাকে চোর বা ছিনতাইকারী হিসেবে অপবাদ দেয়। এরপর তাকে জোরপূর্বক একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টায় সাজিদ দৌড়ে ভবনের আটতলায় আশ্রয় নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানেও থামেনি তার ওপর বর্বরতা। আক্রমণকারীরা তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা গর্তে ফেলে দেয়, যা তার মৃত্যুকে নিশ্চিত করে।

এ ঘটনা শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়; এটি আমাদের সমাজের ভেতরে জমে ওঠা সহিংসতা, নৈতিক অবক্ষয় এবং কিশোরদের বিপথগামিতার এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবি। একটি সম্ভাবনাময় জীবন এভাবে ঝরে পড়া আমাদের জন্য গভীর সতর্কবার্তা—আমরা কি আমাদের আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে রাখতে পারছি?

সাজিদের মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কিশোর গ্যাংয়ের এই অমানবিক উত্থান রোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। নইলে এমন নির্মম ঘটনা হয়তো আর বিচ্ছিন্ন থাকবে না, বরং হয়ে উঠবে নিত্যদিনের বাস্তবতা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, শুধু রাজধানীতেই সক্রিয় রয়েছে অন্তত ১১৮টি কিশোর গ্যাং। দেশের ৩৫টিরও বেশি থানা এলাকায় এই গ্যাং কালচার বিস্তৃত। সারা দেশে গ্যাংয়ের সংখ্যা ২৩৭টি, সদস্য প্রায় ৫০ হাজার। প্রতিটি গ্রুপে ৭ থেকে ২০ জন সদস্য থাকে, যাদের বয়স সাধারণত ১৪ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। এসব গ্যাংয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকে স্থানীয় সন্ত্রাসী, রাজনৈতিক নেতা কিংবা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা—যা সমস্যাটিকে আরো জটিল ও গভীর করে তুলছে।

এ সমস্যার শেকড় অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, এর পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক কারণ। প্রথমত, দরিদ্রতা, প্রায় ৬৯ শতাংশ কিশোর দারিদ্র্যের কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা। পারিবারিক অবহেলা, মা-বাবার মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং মানসিক বিকাশের প্রতিবন্ধকতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যস্ত জীবনে অনেক অভিভাবক সন্তানের সঙ্গে মানসিক যোগাযোগ বজায় রাখতে ব্যর্থ হন। ফলে কিশোররা পরিবারে যে স্নেহ ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার কথা, তা না পেয়ে বাইরে বিকল্প আশ্রয় খোঁজে।

তৃতীয়ত, খারাপ সঙ্গের প্রভাব। বন্ধুত্বের টানে তারা এমন একটি পরিবেশে প্রবেশ করে, যেখানে অপরাধ ও সহিংসতা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। চতুর্থত, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার। বিভিন্ন চলচ্চিত্র, ওয়েব কনটেন্ট বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহিংসতা ও অপরাধকে কখনো কখনো এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা কিশোরদের কাছে আকর্ষণীয় বলে মনে হয়। পঞ্চমত, লক্ষ্যহীনতা, শিক্ষাবিমুখতা এবং কিছু ক্ষেত্রে অপরাধী চক্রের প্রলোভনও তাদের এই পথে ঠেলে দেয়। ষষ্ঠত, এর পাশাপাশি মাদকাসক্তি, পর্নোগ্রাফির সহজলভ্য ও উগ্রতা। সপ্তমত, লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি কিশোরদের অপরাধপ্রবণতাকে আরো উসকে দিচ্ছে। ফলে অপরাধ তাদের কাছে হয়ে উঠছে সহজ ও দ্রুত বিকল্প।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাবও এ ক্ষেত্রে উপেক্ষণীয় নয়। অতীতের কিছু গ্যাং নতুন নামে, নতুন পরিচয়ে আবার সক্রিয় হয়েছে। কেউ বদলেছে দল, কেউ বদলেছে নেতৃত্ব। নতুন বাস্তবতায় অনেক গ্যাং স্থানীয় রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পাওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠছে নতুন নতুন গ্যাং। এতে করে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরো কঠিন হয়ে পড়ছে।

কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির প্রভাব শুধু সংশ্লিষ্ট কিশোরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি পুরো সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিকভাবে সামাজিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, একটি সম্ভাবনাময় প্রজন্ম ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে ধাবিত হয়। কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি কোনো একক কারণে তৈরি হয় না—এটি পরিবার, সমাজ, শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সম্মিলিত দুর্বলতার ফল।

সমাধান কোন পথে

তাই এর সমাধানও হতে হবে বহুমাত্রিক ও সমন্বিত। শুধু আইন প্রয়োগ করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; বরং প্রতিরোধ, সংশোধন, পুনর্বাসনের সমন্বিত পথ ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। পরিবার বিশেষ করে মা-বাবা, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য, ধর্মীয় নেতা এবং শিক্ষক—এই চারটি স্তম্ভ যদি সক্রিয় ভূমিকা রাখে, তবে কিশোরদের বিপথগামিতা অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব।

প্রথমত, পরিবারই একটি শিশুর চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি। মা-বাবার দায়িত্ব শুধু সন্তানকে বড় করে তোলা নয়, বরং তার মানসিক জগৎকে বোঝা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় সন্তানরা একাকিত্বে ভোগে, যা তাদের ভুল পথে ঠেলে দেয়। তাই সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানো, তার বন্ধু-বান্ধব সম্পর্কে জানা এবং তার মনের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা অত্যন্ত জরুরি। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এগুলো জানা যেমন জরুরি, তেমনি তাদের সঙ্গে সময় কাটানো, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা আরো বেশি প্রয়োজন। পরিবারে স্নেহ ও সংযোগ যত দুর্বল হয়, কিশোররা তত বেশি বাইরের অনিশ্চিত জগতে আকৃষ্ট হয়। সন্তান যদি আচরণগত পরিবর্তন দেখায়—হঠাৎ রাগ, গোপনীয়তা, রাতে বাইরে থাকা—তাহলে তা গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

কঠোরতা ও উদাসীনতার মাঝামাঝি একটি ভারসাম্যপূর্ণ আচরণই পারে সন্তানের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও নৈতিকতা গড়ে তুলতে। প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন কার্যক্রমের ওপর নজর রাখাও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে উঠেছে।

পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্যরা এই প্রক্রিয়ায় এক অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা চাচা-ফুফুরা কিশোরদের কাছে অভিজ্ঞতা ও স্নেহের এক নির্ভরযোগ্য আশ্রয়। তারা পারিবারিক ঐতিহ্য, মূল্যবোধ ও শিষ্টাচারের শিক্ষা দিয়ে কিশোরদের মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে কিশোররা মা-বাবার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে সহজে নিজেদের মনের কথা প্রকাশ করে—এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত, ইমাম ও খতিবদের দায়িত্বও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সমাজে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। জুমার খুতবা, ওয়াজ-মাহফিল কিংবা ধর্মীয় আলোচনায় কিশোর অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরা যেতে পারে। কিশোরদের জন্য মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করে তাদের মধ্যে নৈতিকতা, সহমর্মিতা ও আত্মসংযমের গুণাবলি গড়ে তোলা সম্ভব। ধর্ম যে সহিংসতা, মাদক ও অন্যায়কে সম্পূর্ণভাবে নিরুৎসাহিত করে—এই বার্তাটি তাদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

তৃতীয়ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। শিক্ষকরা শুধু জ্ঞানদানকারী নন; তারা একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনের কারিগর। তাই তাদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া। স্কুল-কলেজে কাউন্সেলিং ব্যবস্থা চালু করে ঝুঁকিপূর্ণ কিশোরদের আগেভাগেই শনাক্ত করা যেতে পারে। পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে কিশোরদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। চতুর্থত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পাঠ্যসূচির বাইরে নৈতিক শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে কিশোররা ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়।

সমস্যার সমাধান শুধু আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধ নয়। আইন প্রয়োগ অবশ্যই জরুরি, তবে তার সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ—কারণ এই কিশোররা অপরাধী হয়ে জন্মায় না, বরং পরিস্থিতির শিকার হয়ে পথভ্রষ্ট হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়ন। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কিশোরদের পুনর্বাসন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তাদের অপরাধের ভয়াবহতা যতই বড় হোক, তারা এখনো কিশোর—তাই শাস্তির চেয়ে সংশোধন ও পুনর্গঠনের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এই কিশোরদের পেছনে যারা পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তাদের আইনের আওতায় আনা। কারণ, কিশোররা একা অপরাধী হয়ে ওঠে না; তাদের ব্যবহার করে বড় একটি স্বার্থান্বেষী চক্র। সেই চক্রকে ভাঙতে না পারলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

কিশোর গ্যাং আজ শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি আমাদের সামাজিক, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিফলন।

কিশোররা আমাদের ভবিষ্যৎ, আগামী দিনের নেতা, নির্মাতা ও স্বপ্নদ্রষ্টা। তাদের হাতে অস্ত্র নয়, তুলে দিতে হবে কলম; তাদের মনে ভয় নয়, জাগাতে হবে স্বপ্ন। সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্র একসঙ্গে এগিয়ে এলে—এই অন্ধকারের মধ্যেও আলো খুঁজে পাওয়া অসম্ভব নয়। কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করা মানে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ নির্মাণ করা। তাই এখনই সময়—পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতৃত্ব একযোগে কাজ করে কিশোরদের জন্য একটি সুস্থ ও আলোকিত পথ তৈরি করার।

কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি আজ আমাদের সমাজের এক গভীর সংকটের নাম। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; বরং পরিবার, শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিক নেতৃত্বের দুর্বলতার সম্মিলিত প্রতিফলন। এ সংস্কৃতি দমন করতে হলে শুধু পীড়নমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়, বরং ভালোবাসা, দিকনির্দেশনা ও সুযোগ সৃষ্টি—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলেই আগামী দিনের সমাজ হবে আরো নিরাপদ, সুস্থ ও মানবিক। অন্যথায়, এই দাপটের মোহ একসময় আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করে তুলবে।

লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়

অন্তর্বর্তী সরকার

drkhalid09@gmail.com

শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দূরত্ব

ইসলামী ব্যাংককে বাঁচাতে এখনই যে সিদ্ধান্ত দরকার

পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয়

অঘোষিত রাজতন্ত্র এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা

নারী নেতৃত্বের বেড়াজাল এবং মোরগ-পোলাও বিতর্ক

সন্ধিক্ষণে রাষ্ট্র, রাজনীতিতে উত্তাপ

১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল, ভয়াল সেই রাত

আমেরিকা-পরবর্তী নতুন বিশ্ব

বাংলাদেশে টিটিপি জঙ্গির উদয় হলো কোথা থেকে