ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র আবু বকর সিদ্দিক হত্যা মামলায় রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত ছাত্রদের বহিষ্কারাদেশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে এই আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ঢাবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা যায়।
এতে বলা হয়, আপিল করার মাধ্যমে আবু বকর সিদ্দিক হত্যায় ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, আবু বকরের মৃত্যুর বিষয়টি আমরা ভালোভাবে দেখবো। বিশ্ববিদ্যালয় কাজ শুরু করেছে।
ডেপুটি রেজিস্ট্রার আ. হামিদ হাওলাদার বলেন, এ ঘটনায় উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এটি করা হবে।
২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হলে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় নিজ কক্ষে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র মো. আবু বকর সিদ্দিক মারাত্মক আহত হন। পরের দিন হাসপাতালে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০১০ সালের ২ মার্চ ১০ জনকে ঢাবি থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে বহিষ্কৃত দুই ছাত্র বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে বহিষ্কারাদেশ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট।
আবু বকর হত্যা মামলার আসামিরা হলেন, হল শাখার তৎকালীন সভাপতি সাইদুজ্জামান ফারুক, মফিদুল আলম খান তপু, রকিব উদ্দিন রফিক, মনসুর আহমেদ রনি, আসাদুজ্জামান জনি, আলম-ই-জুলহাস, তৌহিদুল ইসলাম খান তুষার, আবু জাফর মো. সালাম, এনামুল হক এরশাদ ও মেহেদী হাসান লিয়ন।
জানা যায়, আবু বকরের মৃত্যু গুলিতে হলেও পুলিশের ভূমিকা ছিল বিতর্কিত। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মাথার পেছনে শক্ত ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের কথা উল্লেখ ছিল। তবে পুলিশ কোনো অস্ত্র কিংবা আলামত জব্দ করতে পারেনি। পুলিশ আবু বকরের রক্তমাখা লুঙ্গিই আলামত হিসেবে উপস্থাপন করে।
এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষের ২২ সাক্ষীর মধ্যে ১১ জন আসামিদের গুলিতে আবু বকর মারা গেছেন, এ কথা বলেননি। প্রায় সব সাক্ষী বলেছেন, সংঘর্ষকালে পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে আবু বকর মারা যান।
২০১৭ সালে এই হত্যা মামলায় ছাত্রলীগের সাবেক ১০ নেতাকর্মী বেকসুর খালাস পান। বাদীর পক্ষে সরকারি কৌঁসুলি এই মামলা পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন খুবই মেধাবী। তৃতীয় সেমিস্টার পর্যন্ত রেজাল্ট ছিল ৩.৭৫। মৃত্যুর পরে প্রকাশিত ফলাফলে চতুর্থ সেমিস্টারে যৌথভাবে প্রথম হন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী গ্রামে।