হোম > ইসলাম ও জীবন

সব ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে ইসলাম

আমার দেশ অনলাইন

ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর আর্জেন্টিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েক ব্যক্তি আবারও ইসলামবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি তাদের তথাকথিত ‘সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের’ অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

মুসলিমদের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিদ্বেষের সঙ্গে অনেকেই এখন অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এর ভয়াবহতাও তারা উপেক্ষা করছেন। একই ধরনের বক্তব্য মুসলিমদের পরিবর্তে খ্রিষ্টান বা ইহুদিদের লক্ষ্য করে দেওয়া হলে সমাজের প্রতিক্রিয়া নিশ্চয়ই ভিন্ন হতো।

লেখাটির উদ্দেশ্য নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা ধর্মের সমালোচনা হলেই তা নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো নয়। বরং একজন ইসলামি ধর্মতাত্ত্বিক হিসেবে যেকোনো ধর্মের মতবাদ নিয়ে আলোচনা ও বিতর্ককে স্বাগত জানাচ্ছি।

একজন মুসলিম হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে মৌলিক অধিকার বলে মনে করি। তবে প্রতিটি অধিকারের সঙ্গে কিছু দায়িত্ব ও নীতিমালা জড়িত। মিথ্যা বলা, অপমান করা কিংবা অন্যদের আক্রমণ করার অবাধ অনুমতি হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ব্যবহার করা যায় না। এসব ব্যক্তির অনেকে নিজেদের ‘উদারতাবাদী’ বা ‘লিবার্টারিয়ান’ বলে পরিচয় দেন। অথচ বিবেক, বিশ্বাস ও চিন্তার স্বাধীনতাই অন্য সব স্বাধীনতার ভিত্তি।

প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই বিশ্বে স্বাধীনতার আলোকবর্তিকা হিসেবে আর্জেন্টিনাকে গড়ে তোলার লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধর্মীয় স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই।

বহুত্ববাদী সমাজে শান্তি নিশ্চিত করতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে স্পষ্ট ও ধারাবাহিক পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি, নিজেদের পশ্চিমা সভ্যতার রক্ষক হিসেবে তুলে ধরা ‘লিবার্টারিয়ানদের’ পশ্চিমা সমাজের বিকাশে ভূমিকা রাখা ‘স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব’—এই মূলনীতিতে ফিরে যাওয়া উচিত।

আমি ইউরোপে জন্মেছি এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাই অভিবাসন ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের প্রয়োজনীয়তা বোঝি এবং সমর্থন করি। তবে আর্থসামাজিক সমস্যার জন্য কোনো সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে—এ ক্ষেত্রে অভিবাসী বা মুসলিমদের—দায়ী করে তাদের বলির পাঁঠা বানানোর পক্ষে নই।

পশ্চিমা বিশ্বের মানুষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের একটি প্রশ্ন রয়েছে। তা হলো, ধর্মনিরপেক্ষ সমাজে মুসলিম অভিবাসীদের সঙ্গে অন্যদের শান্তিপূর্ণ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব কি না।

এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের দায় পুরো ধর্মের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানাই। শুধু কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের একটি ধর্মের অনুসারী বলে পরিচয় দেন, সেই কারণে তাদের কাজের দায় ওই ধর্মের ওপর চাপানো যুক্তিসংগত নয় বলে মনে করি।

মানবজাতির অতীতের ভয়াবহ অধ্যায়গুলোর কথা বিবেচনা করে- প্রতিটি ধর্মকে তার নিজস্ব মূল উৎস ও মৌলিক শিক্ষা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত ও মূল্যায়ন করা উচিত। ইসলাম ধর্মের ভিত্তি পবিত্র কোরআনের ওহি এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাচরণ ও বাণী। একই ধর্মের অনুসারীরা ভিন্ন ভিন্ন উৎস অনুসরণ করেন বলেই তাদের ‘উগ্রপন্থি’ ও ‘মধ্যপন্থি’—এই দুই ভাগে ভাগ করা ঠিক নয়। ইসলামের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে; ‘উগ্র ইসলাম’, ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ কিংবা ‘মধ্যপন্থি ইসলাম’ বলে আলাদা কোনো পরিচয় নেই।

তবে মুসলিমদের মধ্যে উগ্র ও চরমপন্থী দৃষ্টিভঙ্গির মানুষ রয়েছেন। একইভাবে অন্য ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেও এমন ব্যক্তির দেখা মেলে। কিন্তু উগ্রবাদের মূল কারণ কারও ধর্মীয় পরিচয় নয়। আরবি ভাষায় ‘ইসলাম’ শব্দের অর্থ শান্তি এবং ইসলাম সব ধরনের সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের নিন্দা করে।

পবিত্র কোরআনে নিরপরাধ একজন মানুষকে হত্যা করাকে সমগ্র মানবজাতিকে হত্যার সমতুল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সপ্তম শতাব্দীতেই ইসলাম রাষ্ট্র ও ধর্মের পৃথকীকরণের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেছিল এবং বিশ্বাসকে ব্যক্তি ও স্রষ্টার মধ্যকার ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

নারী-পুরুষের পাশাপাশি সব মানুষের সমতাও ইসলামি ধর্মতত্ত্বের অন্যতম ভিত্তি। ‘জিহাদ’ বলতে শুধু অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধ বোঝায় না; বরং প্রত্যেক মানুষের নিজের ভেতরে থাকা মন্দ প্রবণতার বিরুদ্ধে সংগ্রামকে বোঝায়।

ইসলাম নিজেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নিশ্চয়তা দেয় এবং পশ্চিমা সমাজে মুসলিমদের একীভূত হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে না। কোনো মুসলিম যদি অমুসলিমদের অধিকার হরণ করেন বা পশ্চিমা মূল্যবোধের জন্য হুমকি হয়ে ওঠেন, তাহলে তা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা প্রত্যাখ্যান করা কিংবা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করার ফল। এ ধরনের ব্যক্তিরা শুধু পশ্চিমা বিশ্বের জন্যই নয়, ইসলামের জন্যও হুমকি। একই সঙ্গে তারা বিশ্বশান্তির জন্য বিপজ্জনক।

মানবজাতি বর্তমানে যে গভীর সংকটের মুখোমুখি, তা মোকাবিলায় অস্পষ্টতার বদলে স্পষ্ট অবস্থান এবং শুধু কথার বদলে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রয়োজন। মুসলিম ও অমুসলিম—উভয় সম্প্রদায়ের উগ্রপন্থি ও চরমপন্থিদের জন্য হয়তো মধ্যযুগের ক্রুসেডের যুগে ফিরে যাওয়াই সমাধান বলে মনে হতে পারে।

তবে কয়েকজন ব্যক্তির নিন্দনীয় কর্মকাণ্ডের দায় কোনো ধর্মের ওপর চাপিয়ে বিভক্ত হওয়ার পরিবর্তে মানবসমাজের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে হুমকির মুখে ফেলা সব উগ্রবাদী ও সহিংস মতাদর্শের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এজন্য ‘মধ্যপন্থীদের’ প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

সূত্র: বুয়েনোস আইরেস টাইমসে প্রকাশিত আর্জেন্টিনার মারওয়ান গিলের নিবন্ধ ‘লেটস স্ট্যান্ড আপ টুগেদার এগেইনস্ট হেইট স্পিচ’

আজকের নামাজের সময়সূচি

ইয়েমেন নিয়ে সত্য হচ্ছে রাসুল (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী

জেদ্দায় ষষ্ঠ হজ সম্মেলন ও প্রদর্শনী, হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় জোর

‘সুন্নাহ আমলেই আমাদের মুক্তি, এখানে খাটবে না কোনো যুক্তি’

মানবপাচার রোধে জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান

স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রী কি নফল রোজা রাখতে পারবেন, বিধান কী

মাদরাসা শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় যেসব প্রস্তাব দিলেন মিজানুর রহমান আজহারী

ধর্ম যার যার, এর অর্থ আসলে কী—জানালেন খতিব আব্দুল মালেক

হারাম উপার্জন ঘরে ঢুকলে কী হয়

বাথরুমে অজু-গোসলের দোয়া পড়া যাবে কি