হোম > খেলা > ক্রিকেট

একটি জুটির গল্প

পার্থ রায়, চট্টগ্রাম থেকে

তপ্ত গরমে নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা! চট্টগ্রামে তীব্র গরমের সঙ্গে বাতাসের বাড়তি আর্দ্রতা আরো কঠিন করে তুলেছে পরিস্থিতি। এমন কঠিন আবহাওয়াতে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের সবুজ উইকেটে ব্যাটিংয়ের শুরুতে বড় ধাক্কা খায়। ৩২ রানের মাথায় হারিয়ে বসে তিন উইকেট আর ইনিংসের বয়স তখন মাত্র ৮.৩ ওভার। তখনই সাগরিকায় জুটি বাঁধেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। তাদের দারুণ এক জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। সেই ঘুরে দাঁড়ানোর পথে একসঙ্গে ১৭৮ বল খেলেছেন তারা দুজনে। সে সময় তাদের ব্যাটে এসেছে ১৬০ রান। তাদের দুজনের ওই জুটিতেই মূলত ঘুরে দাঁড়ায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

৩২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন খাদের কিনারায় তখনই ত্রাণকর্তা হয়ে ওঠেন দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাস। তাদের কাছে দর্শকদের প্রত্যাশাটাই তেমন। বেশির ভাগ সময় সেই আস্থার প্রতিদান দিতে না পারা শান্ত-লিটন গতকাল ছিলেন অবিচল। সেই প্রত্যাশার প্রতিদান শান্ত দিয়েছেন সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আর লিটন করেন ক্যারিয়ারের ১৩তম হাফ সেঞ্চুরি। দুজন মিলে সাগরিকার তপ্ত গরমে ব্যাটিং করেছেন ১৩৮ মিনিট। ঘণ্টার হিসেবে যদি বলা হয়—তাহলে সেটা দুই ঘণ্টারও বেশি সময়।

তপ্ত গরমের দিনেও উইকেট থেকে দারুণ সুবিধা পাচ্ছিলেন উইল ও’রোর্ক। সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটার সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারকে ড্রেসিংরুমের পথ ধরান। তাদের করা ভুলে পা দেননি শান্ত-লিটন। দুজনে শুরু করেন দেখেশুনে খেলা। প্রথম দিকে রান আর বলের ব্যবধানটা ছিল অনেক বেশি। তবে বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সেই ব্যবধানটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমিয়ে নেন তারা দুজনে।

তাদের ১৭৮ বলের ওই জুটিতে ছিল ৯৩ ডট। অর্থাৎ, ৫২ শতাংশ বল থেকেই তারা নেননি কোন রান। এতে স্পষ্ট কতটা ধীরগতিতে এগিয়েছেন তারা দুজনে। ডট বলের সংখ্যা বাড়লেও রান-বলের ব্যবধান কমিয়েছেন বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারিতে। দুজন মিলেন হাঁকান ৯ বাউন্ডারি আর ২ ওভার বাউন্ডারি। অর্থাৎ, ১৬০ রানের মধ্যে ৪৮ রান এসেছে সীমানার ওপার থেকে। তপ্ত গরমে বাকি রানগুলো সিঙ্গেলস আর ডাবলস থেকে বের করে নিয়েছেন।

পুরো জুটিতে কখনোই খুব আগ্রাসী রূপ দেখাননি শান্ত-লিটন। বল-রানের ব্যবধান বাড়লেও দেখেশুনে উইকেটে থিতু হওয়াতেই ছিল তাদের মনোযোগ। ফল—৭০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত আর লিটনের লাগে ৭১ বল। সেখান থেকে দুজনে দারুণভাবে জুটিতে এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির পথে। উইকেটে থিতু হয়ে কিউই বোলারদের বুঝে নিয়ে কমিয়ে আনছিলেন বল-রানের ব্যবধান। যার প্রমাণ, ১১৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন শান্ত। আর আউট হওয়ার সময় ৯১ বলে ৭৬ রান করেছিলেন লিটন।

৭৬ রানের ইনিংস খেলার পথে লিটন দাস খেলেছিলেন ৯১ বল। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ, ৪৬ বল ছিল ডট। তার ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ১ ছয়। অর্থাৎ, ১৮ রান এসেছিল বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারি থেকে। বাকি রান তিনি নিয়েছেন সিঙ্গেলস-ডাবলস থেকে। এতেই প্রমাণিত হয়- কতটা ধীরস্থির হয়ে খেলেছিলেন তিনি। একই কথা প্রযোজ্য নাজমুল হোসেন শান্তর ক্ষেত্রেও। তার ১০৫ রানের ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ২ ছক্কা। অর্থাৎ, ৪৮ রান করেছেন বাউন্ডারি থেকে। এছাড়া তার ইনিংসে ছিল ৪০ সিঙ্গেলস ও ৫ ডাবলস।

এতটা ধীরলয়ে ইনিংস এগিয়ে নিলেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেননি। ২৫ বলের ব্যবধানে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। তাদের বিদায়ের পর স্কোরবোর্ডে বাংলাদেশের রান তোলার গতিও কমে আসে। ২২১ রানের মাথায় যখন শান্ত ফেরেন, তখন মনে হচ্ছিল সহজে ৩০০ কিংবা তার চেয়ে বেশি রান করবে বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি ইনিংস থামে ২৬৫ রানে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটারের এমন দারুণ ইনিংসটাই কাম্য ছিল। উইল ও’রোর্ক ছাড়া বলার মতো অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো বোলারই নেই নিউজিল্যান্ডের বর্তমান লাইনআপে। ফলে শান্ত-লিটনের জন্য তাদের দেখেশুনে খেলে ইনিংস বড় করা চ্যালেঞ্জটা সহজে উতরে যেতে পেরেছে। বাকিরা পারেনি বলেই ইনিংস এত অল্পতে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস। নাহলে হয়তো সাগরিকায় বহুল কাঙ্ক্ষিত দলীয় সংগ্রহ ৩০০-এর দেখা মিলত।

তিন সিনিয়রের পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না মুস্তাফিজ-নাহিদের

রবিউল ঝড়ে বিধ্বস্ত দক্ষিণাঞ্চল

‘কনকাশন সাব’ অমিতের রেকর্ড

শান্ত-লিটনের কাছে এমনটাই মিরাজের প্রত্যাশা

সাত বছর পর মোস্তাফিজের ফাইফারে নতুন মাইলফলক

থামল তাদের দুই বছরের অপেক্ষা

নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের বিকেএসপি পরিদর্শন

টিভিতে দেখবেন বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড সিরিজ