পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই টেস্ট জিতেছিল বাংলাদেশ। প্রথমবার পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের পর, সাদা পোশাকে প্রথমবার সিরিজটাও নিজেদের করে নিয়েছিল। পাকিস্তানকে তাদের ঘরে মাঠে হারানোর ওই ইতিহাস এখনো তরতাজা। এর মধ্যে ফের পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এবার পাকিস্তানকে ঘরের মাঠে আতিথ্য দেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এ সিরিজের আগে পুরোনো ইতিহাস আর মনে রাখতে চান না বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। অতীত ইতিহাসকে ভুলে সামনের দিকে লক্ষ্য রাখার দিকে নজর রাখছেন।
সবশেষ টেস্ট সিরিজে রাওয়ালপিন্ডিতে বেশ দাপুটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ১০ উইকেটে জয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টে জয় পেয়েছিল ছয় উইকেটের বড় ব্যবধানে। এমন দারুণ সিরিজ জয় যে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। অতীত ইতিহাস বাংলাদেশকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে, এটা স্বীকার করেন ফিল সিমন্স। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ও কন্ডিশন ভিন্নÑসেটাও মাথায় রাখতে চান এই ক্যারিবিয়ান।
এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা ইতিহাস। আমরা এখন নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। তাই আমরা শুক্রবারের দিকে তাকিয়ে আছি এবং দেখতে চাই শুক্রবার থেকে কী হয়। কিন্তু হ্যাঁ, এটা মাথায় রাখতে হবে এবং ভেতরে অনুপ্রেরণা জোগাব যে, শেষ ম্যাচ জিতেছি।’
শেষ ম্যাচে জয়ের স্মৃতি থাকলেও এখন যে কন্ডিশন, ভেন্যু আর পরিস্থিতি ভিন্নÑসেটাও মনে করিয়ে দেন তিনি। সিমন্সের কথায়, ‘এখন নতুন খেলা, নতুন জায়গা। আমরা এখন বাংলাদেশে আছি, পাকিস্তানে নই। আমাদের চেষ্টা রাখতে হবে সবকিছু পেছনে রেখে শুক্রবারের দিকে লক্ষ্য রাখা।’
পাকিস্তান ম্যাচের আগে বর্তমানে লক্ষ্য রাখা বাংলাদেশ খেলতে পারে একদম সবুজ উইকেটে। গতকাল পর্যন্ত দূর থেকে দেখে উইকেট আর আউটফিল্ড আলাদা করাই কঠিন হয়ে পড়েছিল। এতটাই সবুজ ছিল উইকেট। এমন উইকেট পেসবান্ধব হতে পারেÑএমনটাই ধারণা সবার। কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য তেমন কিছু ভাবছেন না। তিনি সরাসরিই বলে দেন, টেস্ট হবে ভালো উইকেটে।
তার এ কথায় আভাস পাওয়া যাচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হওয়া ওয়ানডে সিরিজের মতো উইকেট দেখা যেতে পারে। উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বড় স্কোর করার দিকে মনোযোগ রাখছেন সিমন্স।
তার কথায়, ‘দল হিসেবে আমাদের তাদের (পাকিস্তান) বিপক্ষে লম্বা সময় ব্যাট করতে হবে এবং বড় রান করার চেষ্টা করতে হবে। সবাই মানসিকভাবে সে অবস্থায় আছে। সবাই বড় রান করার চেষ্টায় আছে।’
মানসিকতার প্রশ্ন ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ফিল সিমন্স জানান, মনে করুন মানসিকভাবে পরিবর্তন হওয়াটাই ব্যাপার। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা মানসিক ব্যাপার। কিন্তু একই সময় কিছু ক্রিকেটার আছে, যারা সাদা বলের ক্রিকেট খেলেনি, লাল বলে খেলেছে। তাদের নিয়ে দুই মাস ধরে কাজ করছি। আমার মনে হয়, তাদের মানসিকভাবে পরিবর্তন হওয়া সহজ হবে।’
তবে মানসিকভাবে যা-ই হোক, ক্রিকেটারদের কাছ থেকে এখন তার চাওয়া ৯৫ শতাংশ। তার কথায়, ‘আমার চাওয়া ৯৫ শতাংশ। ড্রেসিংরুমের বাইরে ৯৫ শতাংশের বেশি। ড্রেসিংরুমে যারা আছি, তারচেয়ে জনগণ বা সবার চাওয়া অনেক বেশি। আমরা প্রস্তুত হচ্ছি এবং সামনে দেখছি কী হয়। আগের সিরিজের প্রত্যাশা আমাদের সাহায্য করবে না। আমরা চেষ্টা করব এ চিন্তা ড্রেসিংরুমে রেখে মাঠে নামতে।’
সব শেষে দুই সংবাদ সম্মেলনেই উঠেছিল সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ছন্দে থাকা নাহিদ রানা প্রসঙ্গ। এ নিয়ে ফিল সিমন্স বলেন, ‘নাহিদ রানার ব্যাপারে দারুণ ব্যাপার হলো তার বোঝার সক্ষমতা আছে। তার মানসিকতা মূলত কীভাবে প্রস্তুত হতে হবে আর কীভাবে প্রস্তুত হবে। সে দারুণ বুদ্ধিমান, এখন পর্যন্ত আমি যা চিনতে পারছি।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমাদের দারুণ কিছু পেস বোলার আছে। নাহিদ এখন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের তাকে দেখেও রাখতে হবে।’