বিশ্বকাপ-২০২৬ শুরু হতে আর মাত্র কদিন বাকি। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসর ঘিরে যখন মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা উৎসব প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখন স্বাগতিক মেক্সিকোর রাজধানীতে দেখা দিয়েছে ভিন্ন এক চিত্র। উদ্বোধনী ম্যাচের এক সপ্তাহ আগে বিক্ষোভকারীরা সরকারি ভবনে হামলা চালিয়েছে, ভাঙচুর করেছে এবং সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের আগে কোনো ধরনের দমন-পীড়নের পথে হাঁটবে না তার সরকার।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে ১১ জুন উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচ সামনে রেখে শহরজুড়ে চলছে সাজসজ্জা। কিন্তু একই সময় শিক্ষক সংগঠন সিএনটিইর একাংশ বৃহৎ আন্দোলন শুরু করেছে।
বুধবার বিক্ষোভকারীরা রাস্তার লাইটপোস্ট ব্যবহার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয়ের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তা বুথ ভাঙচুর করা হয়েছে, জানালার কাচ চূর্ণবিচূর্ণ করা হয়েছে এবং ভবনের একাংশে ছোটখাটো আগুনও লাগানো হয়েছে। এর আগের দিন বিক্ষোভকারীরা রাজধানীর প্রধান সড়কে স্থাপিত ফুটবলারদের বিশালাকারের ভাস্কর্য ফেলে দেয়। এমনকি সরকার দাবি না মানলে বিশ্বকাপ চলাকালেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।
শিক্ষকদের দাবি, বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে এবং বিতর্কিত পেনশন আইন বাতিল করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে ৯ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও আন্দোলনকারীরা ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি থেকে সরে আসেনি। বর্তমানে মেক্সিকোর সরকারি স্কুলশিক্ষকদের প্রারম্ভিক মাসিক বেতন প্রায় ৯৬৭ ডলার।
তবে এই রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মাঝেও বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে মেক্সিকো সরকার। প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম বলেছেন, ‘বিশ্বকাপের আগে আমাদের দমন-পীড়নের পথে ঠেলে দিতে চাওয়া হচ্ছে। আমরা সেই ফাঁদে পা দেব না।’