ইসরাইলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দৌড়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গাদি আইজেনকোট। দেশটির আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট ও রাআম পার্টি আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করার পক্ষে অবস্থান নিতে যাচ্ছে। রোববার হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়েন্ট লিস্টের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে আলোচনায় আরব দলগুলো আইজেনকোটের প্রতি সমর্থন জানানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। আগামী বুধবার (৪ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি ফলাফল গ্রহণ করবেন প্রেসিডেন্ট। এরপর নিজ বাসভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন তিনি।
রোববার এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আলোচনায় কোনো পক্ষ কঠোর অবস্থানে অনড় থাকলে দেশটিকে আবারো নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
হারজগের ভাষায়, রাজনৈতিক নেতাদের উদার মনোভাব নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। পরস্পরের বক্তব্য শুনে মতবিনিময়ের পাশাপাশি নতুন নির্বাচন এড়াতে বাস্তবসম্মত ও সৃজনশীল সমাধান বের করতে হবে।
আইজেনকোটের পক্ষে ৬০, নেতানিয়াহুর ৪৬
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের রোববারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ প্রক্রিয়া বুধবার শুরু হতে পারে। তবে তা বৃহস্পতিবার পেরিয়ে শুক্রবার পর্যন্ত চলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ইসরাইলের আইন অনুযায়ী, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্টকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করতে হবে। এরপর সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য একজন নেতাকে মনোনীত করবেন তিনি।
সাধারণত যিনি পার্লামেন্ট সদস্যদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন বা সুপারিশ পান, তাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে এই দৌড়ে এগিয়ে আছেন গাদি আইজেনকোট।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোর সমর্থনসহ তার পক্ষে ৬০ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশ থাকতে পারে। এ ছাড়া চেঞ্জ ব্লকের শরিক ইসরাইল বেইতেনু দলও তাকে সমর্থন জানালে এই সংখ্যা বেড়ে ৬৭-তে পৌঁছাতে পারে।
অন্যদিকে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পক্ষে লিকুদ, ওতজমা ইহুদিত, শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি থেকে মোট ৪৬টি সুপারিশ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের সাতটি আসনের সমর্থন কোন দিকে যাবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। দলটি রাজনৈতিক আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান নিরপেক্ষ রাখতে পারে।
তবে প্রেসিডেন্টের কাছে সর্বোচ্চ সংখ্যক সুপারিশ পাওয়াই সরকার গঠনের নিশ্চয়তা নয়। দায়িত্ব পাওয়া নেতাকে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দলের সঙ্গে সমঝোতা করে একটি কার্যকর জোট গঠন করতে হবে। পাশাপাশি ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করাও হবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট
এআরবি