হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

ক্রমবর্ধমান শক্তিধর চীন সফরে ইরান যুদ্ধে দুর্বল ট্রাম্প

মাসুম বিল্লাহ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ঐতিহাসিক সফরে চীনে রয়েছেন। গতকাল বুধবার তার বিশেষ বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে বেইজিংয়ে পৌঁছান তিনি। এ সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অত্যন্ত জাঁকজমক অভ্যর্থনা জানানো হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট না আসায় তাকে অভ্যর্থনা জানানো দলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং। দুই দিনের এ সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি তাইওয়ান, বাণিজ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।

এর আগে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার সময় ২০১৭ সালে চীন সফর করেছিলেন ট্রাম্প। প্রায় ১০ বছর আগের ওই সফরে তাকে ব্যাপক আপ্যায়ন করা হয়েছিল; এমনকি তার সম্মানে নিষিদ্ধ শহরে নৈশভোজেরও আয়োজন করা হয়েছিল; যে সম্মান এর আগে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পাননি। এবারের অভ্যর্থনাও সমান জাঁকজমক হওয়ার আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জোহানগানহারিতে সফর। এটি এমন এক অভিজাত কম্পাউন্ড, যেখানে চীনের শীর্ষ নেতারা বসবাস করেন। এবারের আলোচ্যসূচিও ঠিক আগের মতোই জটিল ও স্পর্শকাতর; তবে ইরান সমস্যা এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ট্রাম্প পূর্ব থেকে আরো শক্তিশালী এবং আত্মপ্রত্যয়ী চীনে এসেছেন। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ‘নতুন উৎপাদনশীল শক্তি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন। এ লক্ষ্যে তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রোবোটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছেন। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের ফলে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে। এছাড়া বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের শঙ্কায় রয়েছে। ফলে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যও ক্ষয়িষ্ণু বলে মনে করছেন অনেকে।

যদি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট গত এক দশকে চীনে হওয়া উন্নয়ন দেখতে চান, তাহলে তাকে রাজধানী বেইজিংয়ের বাইরে যেতে হবে। যদিও তিনি বেইজিংয়েই বেশিরভাগ সময় কাটাবেন। চীনের দুর্গম উত্তরে এখন বিশাল এলাকাজুড়ে সৌর ও বায়ুশক্তির আধিপত্য দেখা যায়। আর শিল্পসমৃদ্ধ দক্ষিণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি কারখানা ও সরবরাহব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া চংকিংয়ের মতো মহানগরীগুলো এখন সামাজিকমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরির আকর্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় তহবিলের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চংকিংকে বদলে দিয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমের গভীরে অবস্থিত একসময়ের কঠোর শিল্পনির্ভর উৎপাদনকেন্দ্রটি এখন রূপ নিয়েছে এক শক্তিশালী নগরে, যা পরিবর্তনশীল চীনের প্রতীক। এই চীন নতুন প্রযুক্তি, নতুন বাণিজ্য এবং নতুন এক বিশেষণ‘ট্রেন্ডি’কে গ্রহণ করছে, যেন বিশ্বের সামনে আরো বন্ধুত্বপূর্ণ একটি মুখ উপস্থাপন করা যায়।

আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক আলি ওয়াইন বলেন, ২০১৭ সালে চীন প্রমাণ করার চেষ্টা করছিল যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সমমর্যাদার অবস্থানে পৌঁছে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূরাজনৈতিক সমকক্ষ, তা প্রমাণ করতে ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছিল চীন। কিন্তু এবার চীনের পক্ষ থেকে তেমন কিছু করা হচ্ছে না।’ওয়াশিংটন এখন চীনকে তাদের খুব কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। অনেকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী চীন।

চীন মোকাবিলা করেছে—এমন নেতাদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত সবচেয়ে খামখেয়ালি বিদেশি নেতা। চীনে তার একটি ডাকনামও আছে ‘চুয়ান জিয়াংগুও’, যার অর্থ ‘জাতি নির্মাতা ট্রাম্প’। চীনের নাগরিকদের অনেকে মনে করেন, তার বিভাজনমূলক নীতি ও বাণিজ্য যুদ্ধ আমেরিকার বৈশ্বিক অবস্থান দুর্বল করে চীনের উত্থানকে সহায়তা করছে।

চীনের মধ্যবয়সি এক ব্যক্তি বলেন, তিনি পরিণতি নিয়ে একেবারেই ভাবেন না। তার বোঝা উচিত, আমরা একই পৃথিবীতে বাস করি। এটি একটি বৈশ্বিক গ্রাম। তার সব সময় শুধু আমেরিকাকেই সবার আগে রাখা উচিত নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, চীন দশকের পর দশক ধরে পদ্ধতিগতভাবে নিজেদের উন্নয়নে কাজ করে গেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এবারের সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার সফরসঙ্গীদের তালিকা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একঝাঁক শীর্ষ নির্বাহী এ সফরে তার সঙ্গী হয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্সের কর্ণধার ইলন মাস্ক এবং ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিংক। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, ডজনখানেকেরও বেশি মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানরা এ সফরে অংশ নিচ্ছেন, যা দুদেশের বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

ট্রাম্পের চীন সফরের আলোচ্যসূচি বেশ জটিল হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, দ্বিপাক্ষিকসম্পন্ন উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়তি শুল্ক ও প্রযুক্তির পাশাপাশি তাইওয়ান এবং ইরান ইস্যু এবারের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুপক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলবে, নাকি চুক্তির মাধ্যমে তার সমাধান হবে—সেটাই এ সফরের অন্যতম বড় প্রশ্ন।

চংকিং শহরের সাহিয়ু নামের প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রেতা লুসিয়া চেন বলেন, আমরা মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীল নই। আত্মনির্ভরশীলতার এ প্রচেষ্টায় চংকিং চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে। গাড়ি উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই মেগাসিটি চীনে শীর্ষস্থানে রয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি ওই শহর থেকে মধ্য এশিয়ার মধ্য দিয়ে ইউরোপ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়া ইরান যুদ্ধ আংশিকভাবে শেষ করার চেষ্টায় চীনের কাছে সাহায্য চাইবেন ট্রাম্প। তিনি তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পাদনে চীনের সাহায্যের আশা করছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঝুলে থাকা চুক্তিটি চীনের সহযোগিতায় করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন অনেকে। সেটি সম্ভব হলে ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণ হবে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চায়, যা নিয়ে চীনের আপত্তি রয়েছে। বাণিজ্য যুদ্ধের পাশাপাশি এ বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে।

পদ্মা ব্যারাজের স্বপ্নপূরণ হচ্ছে

লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, যাত্রী ভোগান্তি চরমে

বাংলাদেশবিরোধী পদক্ষেপ শুরু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর

পুলিশ পদকের জন্য মনোনীত জুলাই অভ্যুত্থানে বিতর্কিতরা

ফাঁসির রায় লেখা হয় আইন মন্ত্রণালয়ে

বস্তাবন্দি ডজন ডজন সুপারিশ, বাস্তবায়ন হাতেগোনা

আন্তর্জাতিক রুটে গন্তব্য বাড়াতে পারছে না বিমান

ভেজা ধান নিয়ে চরম বিপাকে হাওরাঞ্চলের কৃষক

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ কার্যকর হতে পারে জুনে

সংবিধান সংস্কারে প্রধান জটিলতা পিআর