বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির রায় লেখা হয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়ে। রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশনা দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা রায়ের কপিটি ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা শুধুমাত্র পাঠ করে শোনান। ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর মধ্যরাতে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’য়ের শিকার হন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত ছয়বারের এই সংসদ সদস্য।
বেলজিয়াম প্রবাসী আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী হিসেবে চিহ্নিত ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের ডিকটেশন নিয়ে তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে বিচার শাখার তিন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত টিম গোপনে রায়টি লিখে দেয়। এটি ৩০ সেপ্টেম্বর দুপুরে ওই সময় আইন সচিবের চলতি দায়িত্বে থাকা জহিরুল হক দুলালের ব্যক্তিগত ই-মেইল থেকে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের ই-মেইলে পাঠানো হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পলাতক) ইচ্ছা অনুযায়ী রায়টি লেখা হয়। আইন মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিচারক, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা আমার দেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আইন মন্ত্রণালয়ের লিখে দেওয়া রায়ের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন এক সদস্য, এক কর্মকর্তা ও আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই সময় দায়িত্ব পালনকারী দুই কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে আমার দেশ। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়টি তৎকালীন সচিবের দপ্তরের সহযোগিতা নিয়ে আইন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর তৈরি করা হয় বলে জানান ওই কর্মকর্তারা। রায় তৈরি করার আগে দেশি-বিদেশি বিভিন্নজনের সঙ্গে ই-মেইলে তথ্য আদান-প্রদান করা হয় বলেও জানান তারা।
কর্মকর্তারা জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা গোপন রায় ফাঁসের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকার চার কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। আইন সচিবের ই-মেইল থেকে রায়ের কপি ফাঁস হলেও সরকার তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে পূর্ণ সচিবের দায়িত্ব দেয় বলে অভিযোগ ওই কর্মকর্তাদের।
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ‘তিনি (সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী) জুডিশিয়াল কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন।’ শেখ হাসিনার প্রত্যক্ষ নির্দেশে তাকে প্রহসনের রায়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয় বলেও দাবি তাদের।
ফাঁসির দণ্ড ছিল পূর্বনির্ধারিত
যেদিন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়, তার আগের দিন রায়টি আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়। আইন সচিবের ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ফজলে কবীরের ব্যক্তিগত ই-মেইলে এটি পাঠানো হয়। আইন সচিবের দাপ্তরিক বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার অসতর্কতার কারণে ওই ই-মেইলের একটি ‘সিসি কপি’ অন্য আরেকটি মেইলে চলে যায়। সেখান থেকেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম পুরো রায়ের কপি ওই দিন সন্ধ্যার মধ্যে হাতে পান। রায়ের মূল অংশে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশনা রয়েছে।
রায়ের কপিটি আইন মন্ত্রণালয়ে তৈরি করা এবং ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে আমার দেশ। রায়ের কপি আগাম ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ওই কর্মকর্তাকেও বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে হয়। প্রায় এক দশক আইনি লড়াই শেষে জয়ী হয়ে তিনি আবার চাকরিতে ফেরেন। নাম ও পদবি গোপন রাখার শর্তে আমার দেশকে তিনি বলেন, রায়টি তৎকালীন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের বিশেষ তদারকিতে তৈরি করা হয়, যার ডিকটেশন দেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। পুরো বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত কার্যক্রমের অংশ হওয়ায় মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে কোনো নথি তৈরি হয়নি। তবে সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ রায় তৈরির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিলেন। তার দায়িত্ব ছিল শুধু কম্পোজ আর নির্দিষ্ট ব্যক্তির ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান করা। রায়ের কপি আসামিপক্ষের হাতে আগাম পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি তার ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ ছিল বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।
আইন মন্ত্রণালয়ের রায় পাঠ করে ট্রাইব্যুনাল
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সকাল থেকেই ঢাকার পুরোনো হাইকোর্ট ভবনে স্থাপিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের শত শত সাংবাদিক হাজির হন। কারাগার থেকে সাদা পায়জামা আর পাঞ্জাবি পরিহিত বিশালদেহী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। আগে থেকেই সেখানে হাজির ছিলেন তার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর, বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক এজলাসে আসেন। রায় ঘোষণার আগে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সূচনা বক্তব্য শুরু করলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম শুরুতেই এক মিনিট সময় নেন। আদালত সময় মঞ্জুর করলে তিনি সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আপনি এখন যে রায়টি পড়বেন, তাতে আসামির বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ডের কথা বলা হয়েছে। এ রায় আপনারা লেখেননি। এটি আইন মন্ত্রণালয়ে লেখা হয়েছে। আপনারা গতকাল দুপুরে ই-মেইলযোগে এ রায়ের কপি পেয়েছেন। আমরাও পেয়েছি।’
ট্রাইব্যুনালের প্রতি রায়ের কপি উঁচু করে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এ রায়ের কপির সঙ্গে আপনাদের কপি মিলিয়ে নিন। হুবহু মিল পাবেন।’ ব্যারিস্টার ফখরুলের এমন বক্তব্যের পর গোটা ট্রাইব্যুনালে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। উপস্থিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক হইচই পড়ে যায়। আদালত তাৎক্ষণিক আদেশের মাধ্যমে সবাইকে ‘চুপ’ করিয়ে দিয়ে রায় পড়তে শুরু করে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবীর তুলে ধরা রায়ের কপির সঙ্গে আদালতে পাঠ করা রায়ের হুবহু মিল পাওয়া যায়।
আইন মন্ত্রণালয়ের লিখে দেওয়া রায় বিচারপতিরা শুধুমাত্র পাঠ করেছেনÑএমন কথা স্বীকার করেছেন ওই সময়ে ট্রাইব্যুনালে বেঞ্চ অফিসারের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাও। আমার দেশকে তিনি বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দিয়েছে। এ মামলার রায়ের ডিকটেশন আমরা নিইনি। ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান রায় ঘোষণার আগের দিন আমাদের এটি নথিভুক্ত করতে দেন।
রায় প্রসঙ্গে আমার দেশ কথা বলে বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে, যিনি ওই সময় তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। মামলা ও রায়ের বিষয়ে তিনটি প্রশ্ন ছিল তার কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখন শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’
সরকারের নথিতে রায় ফাঁসের তথ্য
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মৃত্যুদণ্ড পূর্বনির্ধারিতÑট্রাইব্যুনালে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম এমন নথি পেশ করার পর এটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও আমলে নেয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজে) বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। আইসিজে তাৎক্ষণিক বিবৃতি দিয়ে ওই বিচার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করেনি এবং রায়ে রাজনৈতিক চাপের ছাপ রয়েছে বলে উল্লেখ করে।
ওই ঘটনার পর আইন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে ফখরুল ইসলামসহ ট্রাইব্যুনালের পাঁচজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি নথি ও মামলার রায় ফাঁসের অভিযোগ আনা হয়। কিছুদিনের মধ্যে ফখরুল ইসলামকে ১০ বছর এবং ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হাসিনার সরকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করে।
জুডিশিয়াল কিলিং বলছেন আইনজীবীরা
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এ মামলার পুনর্বিচার (রিট্রায়াল) হওয়া জরুরি। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিলের একটি ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে মিথ্যা রায়ের মাধ্যমে তাকে (সালাউদ্দিন কাদের) হত্যা করা হয়। অথচ ওই দিন তিনি দেশেই ছিলেন না। তিনি পুরো একাত্তর সাল বিদেশে থেকে পড়ালেখা করেন। এ-সংক্রান্ত সব তথ্য-প্রমাণ আদালতে পেশ করার পরও বিনা অপরাধে সরকার জুডিশিয়াল কিলিংয়ের মাধ্যমে তাকে হত্যা করে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে।
সে সময় বিএনপি ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবার ওই বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করে বিবৃতি দেয়।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি আমার দেশকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বিচার বিভাগকে তাদের দলীয় এজেন্ডা আর শেখ হাসিনার জিঘাংসা চরিতার্থ করার কাজে অত্যন্ত নোংরাভাবে ব্যবহার করে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ানও শেখ হাসিনার হিংস্রতার শিকারে পরিণত হন। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে তাকে হত্যার পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
গুম করা হয় ছেলে হুম্মান কাদেরকেও
প্রহসনের বিচার ও ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে হত্যার তথ্য উঠে আসে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে। এরপর পিতা হত্যার বিচার চাওয়ায় গুমের শিকার হন তার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট তাকে গুম করে আয়নাঘরে বন্দি রাখে রাষ্ট্রীয় বাহিনী। সম্প্রতি একটি গুমের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া জবানবন্দিতে হুম্মাম কাদের লোমহর্ষক ওই ঘটনার বর্ণনা দেন।
জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, পিতা হত্যার বিচার চাওয়ায় এবং বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তাকে গুম করা হয়। ওই সময় তিনি বারবার নির্যাতনের শিকার হন।
জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, গুম থাকাবস্থায় তিনি দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে পারতেন না। দিন গুনতেন খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি আনলে বুঝতে পারতেন নতুন দিন শুরু হয়েছে। দুপুর ও রাতের খাবারে থাকত ভাত, এক পিস মাছ অথবা এক পিস মুরগি, সঙ্গে কিছু সবজি। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে তিনি বুঝতে পারেন সেটি ঈদের দিন ছিল। দেয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতেন বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান হুম্মাম।
জবানবন্দিতে হুম্মাম বলেন, গুম থাকাকালে মাঝেমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে মারধর করা হতো। বাবার রাজনীতির বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। তিনি আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করেন কি না, বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে কি নাÑএসব বিষয়ে তাকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হতো বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে আমার দেশ। মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় বর্তমানে তিনি কারাবন্দি। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।