হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কর্মসূচি আ.লীগের

স্বাধীনতা দিবস ঘিরে তৎপরতা

ওয়াসিম সিদ্দিকী

স্বাধীনতা দিবস ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতার পরিকল্পনা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবিতে দলটির নেতাকর্মীরা ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে। এছাড়া সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

ঘোষিত এসব কর্মসূচির পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে। এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। পুরো বিষয়টি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করার পরিকল্পনা করেছে ‘শেখ হাসিনা ঐক্য পরিষদ’। একই দিনে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর আড়ালে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব জানান দেওয়ার একটি নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে। এর নেতৃত্বে রয়েছেন আহ্বায়ক শাহরিয়ার সুমন। তার সঙ্গে এই তৎপরতায় যুক্ত রয়েছেন হানিফ খান, সাইফুল আলম বাবুল ও ফরিদা ইলিয়াস।

সূত্র জানায়, নিষিদ্ধ এই সংগঠনের কার্যক্রমে ইন্ধন জোগাতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সাংবাদিক ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর একটি তালিকা গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সাংবাদিকরা পর্দার আড়ালে থেকে সংগঠনটিকে পুনর্গঠন ও জনমত তৈরিতে কাজ করছেন। এর আগে ঈদের ছুটির সুযোগ নিয়ে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ঝটিকা মিছিল করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন ক্যাডার। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়েও মিছিল করে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী সূত্র জানায়, বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ইতোমধ্যে নিবিড় নজরদারিতে রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ কর্মসূচি নিয়ে সীমিত পরিসরে প্রচার চালানো হচ্ছে। যদিও প্রকাশ্যে বড় ধরনের প্রচার এড়িয়ে চলার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে ‘অফিস খোলার’ গোপন মহড়া

দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পরিত্যক্ত বা সিলগালা হওয়া দলীয় কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার একটি নীরব চেষ্টা চলছে। এ পর্যন্ত দেশব্যাপী অন্তত ৪৫টি স্থানে আওয়ামী লীগ কর্মীরা কার্যালয় খুলে নিজেদের উপস্থিতির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। রাজশাহী, যশোর, পটুয়াখালী, কক্সবাজার ও গাইবান্ধাসহ অন্তত ১৫ জেলায় ঝটিকা মিছিল ও কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বা দলীয় পতাকা উত্তোলনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে রমজান মাসের প্রথম দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি-৩ এলাকায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে ভোরবেলা কয়েকজন নারী নেত্রীকে ভাঙা গেটের সামনে ফেস্টুন হাতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তারা দ্রুত ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করেই সটকে পড়েন।

সবশেষ ঈদের ছুটিতে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্যের ঝটিকা মিছিল নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় গিয়ে সংক্ষিপ্ত সময় অবস্থান করে দ্রুত সরে পড়ে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, এসব কার্যক্রম মূলত ২৬ মার্চকে সামনে রেখে শক্তি প্রদর্শনের একটি প্রাথমিক মহড়া।

আবেগ ও মিডিয়া ট্রায়ালের কৌশল

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনগুলোর গ্রেপ্তার বা কারাবন্দি নেতাদের কেন্দ্র করে আবেগ তৈরির কৌশল বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আদালতে হাজিরা ও কারাগার-সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে ঘিরে ‘সহানুভূতির পরিবেশ’ তৈরির চেষ্টা চালানোর পরিকল্পনার কথা এর আগে আমার দেশ-এ প্রকাশিত সংবাদে তুলে ধরা হয়েছিল।

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষদিকে বাগেরহাটের ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গণমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ প্রচার করেছিল, যাতে তাকে নির্দোষ প্রমাণ করা যায়। অথচ ওই সাদ্দাম এলাকায় ত্রাস হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তার উগ্রতার কারণে তাকে কারাগারেও আলাদা রাখতে হয়েছিল । সাদ্দামকে ঘিরে তৈরি হওয়া ঘটনাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, অতীতের কিছু ঘটনার মতো মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জনমত প্রভাবিত করার চেষ্টা আবারও দেখা যেতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় মিডিয়াকে কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ।

আন্তর্জাতিক মহলেও আওয়ামী লীগের আত্মগোপনে থাকা নেতারা লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী ভারত ও রাশিয়ার মতো বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান সরকারকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘অগণতান্ত্রিক’ হিসেবে প্রমাণ করা এবং ভারতের শক্তিশালী লবিস্ট গ্রুপকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়া।

দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রুখতে রাজধানীসহ সারা দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, এসবি ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) সমন্বিতভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ২৫ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত সম্ভাব্য যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং জাতীয় প্যারেড স্কয়ার এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড ইতোমধ্যে এসব এলাকায় প্রয়োজনীয় সুইপিং সম্পন্ন করেছে। রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এছাড়া র‍্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম অনলাইনে গুজব বা উসকানিমূলক তথ্য প্রচার রোধে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। র‍্যাবের পক্ষ থেকে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ করা হয়েছে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সন্দেহভাজন তৎপরতা দেখলে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় র‍্যাব ব্যাটালিয়ন বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে অবহিত করতে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকেও রাজধানীর প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল। ডিবি পুলিশের তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ (এসবি) গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও তৎপরতা বাড়িয়েছে যেকোনো অপৎপরতা রুখে দিতে। সারা দেশের পুলিশের ইউনিটগুলোও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পাশাপাশি জনসমাগম হতে পারে—এমন স্থানগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সাইবার জগতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। র‌্যাবের সাইবার মনিটরিং টিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানিমূলক পোস্ট বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) শাহাদাত হোসাইন বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করছে পুলিশ। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট কিছু টকশো বক্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ‘বয়ান উৎপাদনকারী’ গোষ্ঠী বর্তমানে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত তৈরিতে আক্রমণাত্মক কৌশলে কাজ করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের এই গোপন পরিকল্পনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকবে। এটা সরকারের ভাষ্য, নাকি বিএনপির দলীয় ভাষ্য—তা পরিষ্কার নয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও একই অবস্থান থেকে বলছে, কোনো ধরনের বেআইনি কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে।

জুলাই শহীদ পরিবারের ঈদ কাটল শূন্যতা ও দীর্ঘশ্বাসে

বাংলা সাহিত্যে প্রথম ঈদকবিতা ও ঈদসংখ্যা

মহিমান্বিত চাঁদরাত

সরকারের ৩০ দিনের পোস্টমর্টেম

নাড়ির টানে গ্রামের পথে মানুষের ঢল

৩৫ পয়েন্টে থমকে যেতে পারে ঈদ আনন্দযাত্রা

এনটিএমসি ও র‍্যাব সংস্কারে সরকারের ধীরগতি

মৃত খাল-নালা পুনরুজ্জীবনে সরকারের মহাপরিকল্পনা

তেলের সংকটে ঈদে লঞ্চ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা

ডিএমপির নতুন কমিশনার পদে আলোচনায় তিনজন