ভোলার লালমোহনে বরাদ্দকৃত মৎস্য ভিজিএফ চাল না পেয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন বুভুক্ষু জেলেরা। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের পাটাওয়ারীর হাটসংলগ্ন মেঘনা নদীতীরবর্তী কোবখালী মাছঘাটের বেড়িবাঁধে অসহায় জেলেদের পক্ষ থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওই এলাকার শতাধিক জেলে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাছঘাটের ব্যাবসায়ী মো. সালাউদ্দিন দালাল, মো. ইলিয়াস দালাল, রফিক মাঝি, ফিরোজ হাওলাদার, আব্দুর রসিদ মাঝি, সিরাজ, লোকমানসহ শতাধিক জেলে। জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রকৃত জেলে, সরকারের সব আইন মেনে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকি। অবরোধে আড়তদারের দাদন ও এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করা এবং বউ-বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে দিন যাপন করতেছি।
অবরোধের ৪০ দিন পার হলেও বুভুক্ষু জেলেরা প্রথম কিস্তির মৎস্য ভিজিএফ চাল এখনো পাননি। কবে জেলরা চাল পাবেন, তা বলছেন না ধলীগৌরনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান।
জেলেরা অভিযোগ করেন, ধলীগৌর নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকছুদুর রহমান চাল বিতরণে গড়িমসি করছেন। এছাড়া উপজেলা মৎস্য অফিস জেলেদের চাল পাওয়ার ব্যাপারে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। ঈদুল ফিতরের আগে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেনিন দায়িত্বপ্রাপ্তরা।
জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ না করার ব্যাপারে ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়ন বিএনপিকে জেলেদের মোট কার্ডের ৬০ শতাংশ দিতে হবে। তাদের মধ্যে দুজন জেলেদের লিস্ট জমা দিয়েছেন, একজন এখনো দেননি। তার জন্য চাল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা যাদের নাম দেবেন, আমি তাদের জেলে কার্ড দেখে চাল বিতরণ করব।’
এ ব্যাপারে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানান, ঈদের আগেই চাল দেওয়ার কথা চেয়ারম্যানকে বলেছি। মৎস্য অফিস থেকে চালের ডিও বহু আগে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান চাল দিতে কেন গড়িমসি করছেন, তা জানা নেই।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করতে দেরি হয়ে গেছে। আশা করি রোববার জেলেদের কার্ড দেখে চাল বিতরণ করা হবে।