হোম > সারা দেশ > বরিশাল

বোরহানউদ্দিনে ঝড়ের তাণ্ডব, খোলা আকাশের নিচে বহু পরিবার

উপজেলা প্রতিনিধ, বোরহানউদ্দিন

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ভোলা বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের বহু পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত মাসের ২৫ তারিখের ঝড়ের পর থেকে তারা চালাবিহীন ঘর ও আশপাশের খোলা জায়গায় অবস্থান করছে। ঝড়ের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনও কোনো ধরনের সরকারি বা বেসরকারি সহায়তা পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সাচড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দরুন গ্রামে ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত তিনটি টিনের ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরও একটি টিনশেড ঘরের চাল উড়ে গেছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী। এতে পরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত শাহে আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বেড়িবাঁধের ওপর প্রতিবন্ধী স্ত্রী ফুলজানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন। ঈদের তিন দিন আগে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে তাদের ঘরের ওপর বিশাল একটি গাছ ভেঙে পড়ে। মুহূর্তেই ঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঘর মেরামত করতে পারছেন না। ঝড়ের পর থেকে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তাদের। ঈদের আনন্দও তাদের জীবনে আসেনি।

তিনি অভিযোগ করেন, এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা কিংবা বেসরকারি সংস্থা তাদের খোঁজ নেয়নি। একই গ্রামের খোরশেদ জানান, নিজের কোনো জমি না থাকায় আগে অন্যের জমিতে বসবাস করতেন। পরে সরকারি বেড়িবাঁধের ওপর একটি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু ঝড়ে সেই ঘরটিও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। বর্তমানে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাটিতে পাটি বিছিয়ে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।

ক্ষতিগ্রস্ত সাকিব সিকদার ও খোরশেদ সরদার বলেন, ঝড়ে আমাদের ঘরের বেশিরভাগ অংশ ভেঙে গেছে। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে। সহায়তা তো দূরের কথা, এখন পর্যন্ত কেউ খোঁজও নেয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু দরুন গ্রাম নয়, উপজেলার দেউলা, পক্ষিয়া, গঙ্গাপুর ও হাসাননগর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু বসতঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে আছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে যাওয়ায় উপজেলার অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ঈদের সময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সাচড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মোল্লা বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

এদিকে, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও জরুরি মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই আশ্রয়হীন পরিবারগুলোর মাথা গোঁজার ব্যবস্থা না হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এএস

বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ১৪

কাউখালীতে মটরসাইকেলের ধাক্কায় এক ব্যবসায়ী নিহত

কুয়াকাটায় পথচারীকে বাঁচাতে প্রাণ গেল পর্যটকের

দশমিনায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাংবাদিকের আত্মহত্যা​

জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে কোরআন খতম ও খাবার বিতরণ

বাবুগঞ্জকে শিল্পসমৃদ্ধ ও আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে: ফরিদ

ঝালকাঠিতে ৪দিন ধরে টাকা নেই ইসলামি ব্যাংকের এটিএমে

পিরোজপুরে দুই জনের লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ ১

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৭ দিনের ব্যবধানে ফের জোড়া খুন

উন্নয়নের রাজনীতির সূচনা করেছিলেন শহীদ জিয়া: হাফিজ ইব্রাহিম