কুমিল্লার লালমাই উপজেলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে উপজেলা মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন সংক্রান্ত জরিপের ফলাফল উপস্থাপন ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত উপজেলা শহর মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ ডেটা শেয়ারিং কর্মশলা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া বলেন, “লালমাই উপজেলা প্রতিষ্ঠার মাত্র সাত বছরের মধ্যে একটি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। আপনারা সঠিক তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করুন, উন্নয়নের দায়িত্ব আমি নেব।”
তিনি আরও বলেন, লালমাইয়ের বিপুলসংখ্যক খামারির উৎপাদিত দুধ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে নানা সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে দুধ বিক্রি করতে না পারার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানান।
এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রবাসীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, উপজেলার উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রবাসীদের তথ্য ও ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাহমিনা মিতুর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মাস্টার প্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তারা জানান, গত তিন বছর ধরে মাঠপর্যায়ের জরিপ, ডিজিটাল ম্যাপিং, ড্রোন প্রযুক্তি ও আধুনিক তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে এই পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রণীত মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে লালমাই উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সড়ক যোগাযোগ, জনসেবা সম্প্রসারণ, জলাশয় সংরক্ষণ, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উন্নয়নে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের পথও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
সভায় বক্তব্য দেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক জামাল নাছের, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফাহমিদা আফরোজ, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদউল্লাহ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জিত সেন এবং সাংবাদিক মাসুদ রানা।
বক্তব্যকালে ডা. সালেহ আহম্মেদ বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই উপজেলার কতজন প্রবাসী রয়েছেন, তাদের অবস্থান ও অবদান সম্পর্কিত তথ্য মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি উপজেলার পুকুর ও জলাশয়ের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও হালনাগাদ তথ্য সংযোজনের পরামর্শ দেন তিনি।
কর্মশলার শুরুতে উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মতামত ও সুপারিশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে কর্মশলার সমাপ্তি ঘটে।