হোম > সারা দেশ > চট্টগ্রাম

কোমরপানি ভেঙে আশ্রয়কেন্দ্রে ৭০ বছরের বৃদ্ধার করুণ লড়াই

নয় দিন পর মিলল ত্রাণ

এম কে মনির, চট্টগ্রাম

টানা ৯ দিন ধরে চুলায় জ্বলেনি আগুন। চারদেয়ালে বন্দি উপোস কাটানো পরিবারটির দিকে তাকানোর মতো কেউ ছিল না। অবশেষে রোববার রাতে একখানা ত্রাণের টিকিটের ব্যবস্থা হয়। সেই টিকিটের জোরেই কোমর সমান নোংরা ও ঠান্ডা পানি মাড়িয়ে, কাঁপতে কাঁপতে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে আসেন ৭০ বছর বয়সি রেখা রাণী দাস।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের কেঁওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে যখন তিনি পৌঁছান, তখন তার শরীর থরথর করে কাঁপছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রতিমন্ত্রীর হাত থেকে একটি ত্রাণের প্যাকেট তার হাতে পৌঁছাতেই মলিন মুখে যেন এক চিলতে নতুন আশার আলো জেগে উঠল।

মনে হলো, ৯ দিনের অনাহারের অবসান হবে এবার! মাথায় ত্রাণের প্যাকেট নিয়ে রেখা রাণী দাস কথা বলেন আমার দেশের সঙ্গে।

জানান, ঘরে কোনো পুরুষ মানুষ নেই তার। একমাত্র মেয়ে আর দুই নাতিকে নিয়ে তার সংসার। বানের পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে থাকায় চরম সংকটে পড়েছেন তারা। ক্ষুধার্ত মেয়ে আর নাতিদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতেই এই বয়সে কোমরপানি ভেঙে তাকে আসতে হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। ত্রাণ পাওয়ার পর সেই ভারী প্যাকেট মাথায় নিয়ে আবারও কোমরপানি মাড়িয়ে যখন তিনি বাড়ির পথ ধরলেন, সেই দৃশ্য দেখে উপস্থিত অনেকের চোখেই জল চলে আসে। কিন্তু চলমান এই ভয়াবহ দুর্যোগে চারপাশের পরিস্থিতি এতটাই নির্মম যে, কারও দিকে তাকানোর বা সহমর্মিতা জানানোর ফুরসতটুকুও যেন হারিয়ে গেছে।

রেখা রাণী দাস চট্টগ্রামের ভাষায় বলেন, ‘৯ দিন ধরি ঘরে ভাত রান্ধন ন যায়। পোয়াইনগুন উপোস আছিল। ঘরের ভিতুরে পানি আর পানি। বেয়াগ্গুন বন আর রুটি খাই আছিলদি...এই পানির মইধ্যে কত্ত কষ্ট গরি আইসি তা ভগবান জানে।’

এই করুণ চিত্র শুধু রেখা রাণীর একার নয়; কেঁওচিয়া ইউনিয়নসহ পুরো সাতকানিয়ায় এখন এমন দৃশ্য অহরহ। স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার প্রায় চার লাখ বাসিন্দা এখন সম্পূর্ণ পানিবন্দি।

জানা যায়, সাতকানিয়ায় বর্তমানে প্রধান সংকট বিশুদ্ধ খাবার পানি, শুকনো খাবার ও শিশুখাদ্যের। বন্যায় উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ৫ থেকে ৭ ফুট পানির নিচে। নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো উপায় নেই। নৌকা অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে কোনো পরিবার এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে পারছে না। আজকের কেন্দ্রে থাকা পরিবারগুলোও বাড়িঘরের পরিস্থিতি দেখতে যেতে পারছে না।

আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা: উপজেলার কেওচিয়া উচ্চ বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত মানুষের চাপ রয়েছে। স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট সেখানে। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন অথৈ সমুদ্র। হাজার হাজার কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ ও মাছের ঘের। প্রশাসন ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত সাহায্য পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রেখা রাণী দাসের মতো লাখো মানুষের এখন একটাই প্রার্থনা—পানি যেন দ্রুত নেমে যায়, আর তারা যেন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন।

মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে, ডুবছে লোকালয়

প্রধানমন্ত্রীর ফোনের পর কুমিল্লার সেই এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিবর্তন

চকরিয়া-রামুতে আরো দুজনের মৃত্যু, কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৭

গোয়েন্দা সদস্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারে বন্যার পানি নামছে, বেরিয়ে আসছে ক্ষতচিহ্ন

কক্সবাজারে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের পাশে বিজিবি

শাহরাস্তিতে যুবলীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি, ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা করে ৩৫ লাখ টাকা লুট

রামুতে তীব্র স্রোতে নিখোঁজ হওয়া যুবকের লাশ উদ্ধার

ভূমিহীনের জায়গা দখল করা সেই হাশেমের নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর বিএনপি