ফেনীর পরশুরাম উপজেলার একটি কর্দমাক্ত সড়কে ধানের চারা রোপণ করে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের প্রধান কাঁচা সড়কে ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচি পালন করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষোভ ও হতাশা থেকে কাদায় ভরা সড়কের মাঝখানে ধানের চারা রোপণ করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, দক্ষিণ কাউতলী গ্রামের বিক্ষুব্ধ যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ হাঁটুসমান কাদার মধ্যে সারিবদ্ধভাবে ধানের চারা রোপণ করছেন। এ সময় তারা দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক ব্যবহার করছেন। রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ জরুরি সেবার যানবাহনও কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে এ পথে চলাচল করতে চায় না। ফলে কোনো অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন মজুমদার বলেন, "সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে যায়। এখন বর্ষা শুরু হওয়ায় পুরো রাস্তা যেন কাদার সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর আমরা এই দুর্ভোগ সহ্য করছি।"
আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, "আমাদের এই দুর্ভোগ বহু বছরের। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় এসে নানা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। এই রাস্তা এখন আর রাস্তা নেই, যেন চাষের জমি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি।"
স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুরুল ইসলাম জানায়, "একটু বৃষ্টি হলেই জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। কাদা ছিটকে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি চাই।"
এ বিষয়ে মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, "রাস্তাটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি আমরা অবগত আছি। সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।"