কুমিল্লা, ফেনী ও হবিগঞ্জে পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। এসব দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবার ও স্বজনদের ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে।
শনিবার (২১ মার্চ) মধ্য রাতে ও রবিবার (২২ মার্চ) সকালে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
ঈদের রাতে কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে উঠে পড়া এক বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।
শনিবার রাত ৩টার আগে আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মামুন স্পেশাল পরিবহনের বাসটি চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষীপুরের দিকে যাচ্ছিল। সংঘর্ষের পর দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া বাসটিকে ছেঁচড়ে কিছু দূরে নিয়ে যায় ট্রেন।
দুর্ঘটনার পর দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া, এ ঘটনায় রেলওয়ের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের (চট্টগ্রাম) বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা জানিয়েছেন। একইসঙ্গে কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান।
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৪
হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।
রবিবার (২২ মার্চ) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মাধবপুরের আন্দিউড়া স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ রয়েছেন।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালায়। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়।
ফেনীর রামপুর এলাকায় বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তিনজন।
রবিবার (২২ মার্চ) ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মহিপাল হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী-রামপুর এলাকায় চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি লেনে ব্রিজের সংস্কার কাজ চলছিল। ব্রিজের আগে স্পিডব্রেকারে একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে পার হচ্ছিল। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস অ্যাম্বুলেন্সটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ ঘটনায় বাস-অ্যাম্বুলেন্স কথা কাটাকাটি শুরু হলে পেছনে মোটরসাইকেল ও আরো কিছু বাসের জট লেগে যায়। তার কিছুক্ষণ পর বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দেয়। এতে একজন মোটরসাইকেল আরোহী, বাসের সুপারভাইজার ও এক যাত্রী নিহত হন।
নিহতরা হলেন, ঢাকার লালবাগ শহীদনগর এলাকার মজিবুর রহমানের ছেলে সোহাগ রহমান (২৭), রংপুরের হারাগাছ থানার বাসিন্দা মো. মোরশেদ (৪০) এবং দোয়েল পরিবহনের সুপারভাইজার মো. কাউছার (৩৫)।