ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আবহে নরসিংদীর রাজনীতি এখন সরগরম। রাজনৈতিক দলগুলো আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে। বড় দলগুলোর পাশাপাশি ছোট দলগুলোও তাদের অবস্থান শক্ত করতে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। ভোটের জন্য ভোটারদের মাঝেও আগাম উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে প্রার্থীদের কারো কারো আচরণ নিয়ে উৎকণ্ঠাও রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। ইতোমধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত আন্দোলন, এনসিপি ও খেলাফত মজলিসের প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থক নিয়ে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোট প্রার্থনায় চষে বেড়াচ্ছেন গ্রাম থেকে গ্রামে ও শহরের অলিগলি। কেন্দ্র থেকে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই চলছে মিছিল, মিটিংসহ গণসংযোগসহ নানা ধরনের কর্মসূচি।
নরসিংদী-১ (সদর)
১১টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৭০ হাজার ৬২৯। স্বাধীনতার পর বেশির ভাগ সময় আসনটি বিএনপির দখলে থাকলেও ২০০৮ সাল থেকে দখলে নেয় আওয়ামী লীগ। বিএনপি পুনরায় তাদের আসনটি দখলে নিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিএনপি থেকে এই আসনে মনোনয়ন পান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা সভাপতি খায়রুল কবীর খোকন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম ভূঁইয়া। এবার এখানে এই দুজনের মধ্যেই মূল ভোটযুদ্ধ হবে বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা। এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল, ইসলামী আন্দোলনের আশরাফ হোসেন ভূঞা, গণফোরামের শহিদুজ্জামান চৌধুরী, গণঅধিকার পরিষদের শিরিন আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাখাওয়াত হোসেন ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হামিদুল হক পারভেজ।
নরসিংদী-২ (পলাশ)
পলাশ উপজেলার চারটি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা এবং নরসিংদী সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার দুই লাখ ৮২ হাজার ৯৫৬। এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পান হেভিওয়েট প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি এ আসনে একাধিকবার এমপি হয়ে মন্ত্রিত্বও লাভ করেন। ফলে এবারও জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। অন্যদিকে এ আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। বিভিন্ন অন্যায়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে ইতোমধ্যে সচেতন মহলের নজরে এসেছেন তিনি। তবে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও তা প্রত্যাহার না করায় এখনো বৈধ প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা আমজাদ হোসেন। বিষয়টি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থকরা। এ আসনে আরো নির্বাচন করছেন ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের আসিফ ইকবাল, জাতীয় পার্টির রফিকুল আলম ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
নরসিংদী-৩ (শিবপুর)
৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন দুই লাখ ৮০ হাজার ৯৭০ ভোটার। আসনটি দীর্ঘদিন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার দখলে থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা আওয়ামী লীগের হাতে চলে যায়। এবার এখানে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলার সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী। তবে তার দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আরিফ উল ইসলাম মৃধা। এছাড়া এখানে ১১ দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রাকিবুল ইসলাম। এ আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন—জাকের পার্টির আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান, জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম ও ইসলামী আন্দোলনের ওয়াজেদ হোসেন ভূঁইয়া। এদিকে প্রতীক থাকলেও সংবাদ সম্মেলন করে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান কাউছার ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ থেকে রায়হান মিয়া।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব)
নরসিংদীর বেলাবো ও মনোহরদী উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনের ভোটার চার লাখ ২৪ হাজার ১৫৬। এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলার সিনিয়র সহসভাপতি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। ১১ দলের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামের জেলা কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এ আসনে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জনতার দলের আবু দার্দ্দা মো. মা’জ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজি শরিফুল ইসলাম (নির্বাচনি মাঠে অনুপস্থিত), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাজী সাজ্জাদ জহির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মিলন মিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাসির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির কামাল উদ্দিন ও ইসলামী আন্দোলনের সাইফুল্লাহ।
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা)
২৪টি ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা নিয়ে গঠিত নরসিংদী-৫ আসনের ভোটার চার লাখ ৮৮ হাজার ২৯৬ জন। এই আসনে টানা ৩০ বছর আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। আসন্ন নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়কসহ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন বকুল। এই আসনে প্রথমে ১১ দল থেকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে জামায়াত মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি। পরে ইসলামী আন্দোলন সরে গেলে জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে তাজুল ইসলামকে সমর্থন দেওয়া হয়। এখানে আরো নির্বাচন করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বদরুজ্জামান উজ্জল, জাতীয় পার্টির মেহেরুন নেছা খাঁন হেনা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের তাহমিনা আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল আহমেদ চৌধুরী (বিএনপি থেকে সদ্য বহিষ্কৃত), তৌফিকুর রহমান, জামাল আহম্মেদ চৌধুরী, মো. সোলায়মান খন্দকার ও মুহাম্মদ পনির হোসেন।