আর কত মায়ের বুক খালি হবে
সীমান্তে হত্যা শূন্যতে নামিয়ে আনা আর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার ব্যাপারে দুই দেশের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকবার বৈঠক হয়েছে। কিন্তু তার পরেও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার যেন কোনোভাবেই থামছে না। সীমান্তে আর কত হত্যা, আর কত মা সন্তানহারা হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে- এই প্রশ্ন এখন সীমান্ত এলাকার অধিবাসীদের।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে নতুন করে প্রাণহানির ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হযেছে। ২০২৬ সালের শুরুতেই তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এপ্রিল ও মে মাসে লালমনিরহাটসহ কয়েকটি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গোটা সীমান্তবর্তী এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে।
গত ৫ সপ্তাহের ব্যবধানে শুধু লালমনিরহাট সীমান্তে ২ বাংলাদেশি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করার ঘটনায় সীমান্ত এলাকার চরম আতংক বিরাজ করছে। সর্বশেষ ১৪ মে বৃহস্পতিবার ভোরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বনচৌকি বিওপির সীমান্তবর্তী এলাকায় খাদেমুল ইসলাম (২৪) নামের এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয় ।
এর আগে ৮ এপ্রিল লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে আলী হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। সচেতনমহল বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরো স্থিতিশীল ও আস্থাভিত্তিক করতে হলে সীমান্তে প্রাণহানি বন্ধ করাই সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ। সীমান্তে রক্তপাত অব্যাহত থাকলে দুই দেশের সম্পর্কে অবিশ্বাস ও ক্ষোভের দেয়াল আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।
সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের এমন মারমুখী আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারত বারবার আশ্বাস দিলেও সেটার বাস্তবায়ন শূন্যের কোঠায়। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলি করে বাংলাদেশি হত্যা, ধরে নিয়ে যাওয়া ও নির্যাতন, জোর করে কাটাতারের বেড়া নির্মাণের ঘটনা যেন বন্ধই হচ্ছেই না। ভারত বাংলাদেশের ওপর যেন আরো প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনার একটিরও বিচার না হওয়ার কারণে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলেছে।
এমনকি বিএসএফ বা ভারত সরকার হত্যাকাণ্ডের কোনো ঘটনায় কখনো উদ্বেগও প্রকাশ করেনি। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, জবাবদিহির বাইরে থাকার কারণেই মূলত সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক আইন কোনো বাহিনীকে বিশ্বের কোথাও নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের গুলি বা নির্যাতন করার অনুমতি দেয় না।
সীমান্ত ঘুরে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় লালমনিরহাট সীমান্ত পথে গবাদিপশু পাচার, আত্মীয়র সঙ্গে দেখা বা ভালো কাজের খোঁজে দুই দেশের মানুষ সীমান্ত পারাপার করে থাকে। শূন্যরেখার কাছে কৃষিকাজ কিংবা মৎস্য আহরণের জন্যও অনেককে সীমান্ত অতিক্রম করতে হয়।
ভুল করে কেউ ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে বা অরক্ষিত সীমান্ত সামান্য অতিক্রম করলেই শুরু হয় বিএসএফের আগ্রাসি তৎপরতা। সীমান্তে চোরাচালান ও বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধের কারণ দেখিয়ে বিএসএফের বিতর্কিত শুট অন সাইট (দেখামাত্র গুলি) নীতি সীমান্তে বহাল রয়েছে। অনেক সময় বিএসএফ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকে জোর করে বাংলাদেশিদের ভারতে নিয়ে গিয়ে সেখানে গুলি কিংবা নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, সীমান্ত এলাকায় শান্তি, স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
এমএইচ