হোম > সারা দেশ > রংপুর

নীলফামারীর বেশিরভাগ নদী মৃতপ্রায়, বিরূপ প্রভাব

আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারী

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে অসংখ্য নদ-নদী। এক সময় দেশে ৭০০ নদী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে এর বেশিরভাগই মৃত নয়তো পানির অভাবে মৃতপ্রায়। এসব নদীর ওপর নির্ভর করে লাখো মানুষের জীবিকা চলে। এর ব্যতিক্রম নয় উত্তরের জেলা নীলফামারিও। জেলার ছোট-বড় সব মিলিয়ে প্রায় ৪০টি নদী এখন পানিশূন্য। এসব নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে কৃষকরা বোরো, ভুট্টা, তামাক, রসুন, পিঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করছে।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহার ও জেলার সর্ববৃহৎ নদী তিস্তার উজানে গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণের ফলে বেশিরভাগ নদী এখন মরে গেছে। দু-একটি নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এতে পরিবেশের চরম বিপর্যয় ঘটার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য। দেশের উত্তরাঞ্চলের এক কালের গভীর ও প্রবল স্রোতধারার নদীগুলো ক্রমেই তাদের অতীত ঐতিহ্য হারাচ্ছে, যা এখন শুধুই এলাকার প্রবীণদের স্মৃতি হয়ে রয়েছে। নাব্যতা হারানো এসব নদীতে এখন আর পালতোলা নৌকা কিংবা পণ্য বোঝাই নৌকার আনাগোনা দেখা যায় না।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, জেলার ওপর দিয়ে তিস্তা, চাড়ালকাটা, বুড়িতিস্তা, বুড়িখোড়া, ধুম, পাঙ্গা-খেড়ুয়া, কুমলাই, নাউতারা, যমুনেশ্বরী, নলডাঙ্গা, ইছামতী, খড়খড়িয়া, বুল্লাই, দেওনাই, শালকী, চিকলী, কলমদার, বামন ডাঙ্গাসহ ছোট-বড় প্রায় ৪০টি নদ-নদী প্রবাহিত হয়েছে। যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০০ কিলোমিটার। প্রায় পাঁচ দশক আগেও এসব নদীর বুকে চলাচল করত মাল বোঝাই বড় বড় পালতোলা নৌকা। এখন পানির অভাবে বছরের পর বছর পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদীগুলো তার নাব্য হারিয়েছে। সমতল ভূমি থেকে এসব নদীর গভীরতা এখন স্থানভেদে মাত্র মাত্র ৩ থেকে ৫ ফুট। ইতিমধ্যে অনেক নদী শুধু মানচিত্রে ঠাঁই করে নিয়েছে।

এক সময় প্রবহমান নদীগুলোতে প্রচুর মাছ পাওয়া গেলেও এখন পানির অভাবের কারণে তেমন মাছ মিলছে না । এতে করে মাছের উপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলো কর্মহীন হয়ে গেছে। পানিশূন্য নদীর বুকে প্রায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে শুকনো মৌসুমে বোরো চাষ হচ্ছে। নদীগুলোর পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষার টানা বর্ষণে দুইকূল ছাপিয়ে নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জমির ফসল। পানিতে তলিয়ে যায় মানুষের ঘর-বাড়ি। এভাবে পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে।

নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীগুলোর নাব্য ফিরিয়ে আনতে পুনঃখননের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রকল্প পরিকল্পনা পাঠিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। কিন্তু বার বার তাগিদ দেওয়ার পরেও এসব প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। এতে লাল ফিতায় বন্দি হয়ে পড়েছে নদী পুনঃখনন কাজ। দু-একটি নদী পুনঃখনন করলেও পানির অভাবে তা কোনো কাজে আসছে না। সময়ের সঙ্গে তা অর্থ অপচয়ের প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। নদী মরে যাওয়ার ফলে অনেকে নিরূপায় হয়ে ইরি-বোরো চাষের পরিবর্তে পাট, তামাকসহ অন্যান্য ফসল চাষের দিকে ঝুঁকছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক নদী তিস্তার উজানে বাঁধ নির্মাণ ও একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে এ অঞ্চলের পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। পানির অভাবে এরই মধ্যে বুড়িতিস্তা সেচ প্রকল্প পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। তিস্তাসহ প্রবহমান নদীগুলোকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলে অতীতে গড়ে উঠেছিল শহর, বন্দর। অনেক এলাকার নাম জড়িয়ে গেছে নদী, জলাভূমি ও মাছের নামে। এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ নদীগুলোর রয়েছে অপরিসীম অবদান। নদীকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের জীবন ও জীবিকার প্রশ্ন জড়িত। গজলডোবা ব্যারেজের প্রভাবে পানির অভাবে প্রধান নদী তিস্তা শুকিয়ে যাওয়ায় ৫০ হাজারেরও বেশি মৎস্যজীবী পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।

কৃষিবিদরা জানান, এ অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এবং অপরিকল্পিতভাবে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে কৃষি উৎপাদন দিন দিন হুমকির মুখে পড়ছে। নদীগুলো মরে যাওয়ায় খাল, বিল, হাওড়-বাঁওর শুকিয়ে এখন আবাদী জমিতে পরিণত হয়েছে। পরিবেশের বিরূপ প্রভাবে হারিয়ে গেছে কয়েকশ’ মৎস্য প্রজাতি ও দেশীয় পাখি।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, জেলার ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া নদ-নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা ও বুড়ি তিস্তায় পলি জমে চর পড়েছে। বর্ষায় টানা বর্ষণে নদীগুলো প্লাবিত হয়ে নদী তীরবর্তী এলাকার ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক। বাড়ি-ঘরে পানি উঠে অকাল বন্যার কবলে পড়ে মানুষ।

এলাকাবাসীর দাবি এসব নদ-নদী পুনঃখনন ও উজানের পানি প্রবাহে প্রবহমান করা গেলে অকাল বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবে ফসল ও ঘরবাড়ি। পরিবেশের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাবে প্রকৃতি। নদীগুলো তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাব চৌধুরী বলেন, নদীগুলোতে পানির অভাবে চর পড়ে যাওয়ায় নদীর তল দেশেও বিভিন্ন ফসলের আবাদ করা হচ্ছে। এ কারণে নদী দ্রুত ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে, একই সঙ্গে নদীর গভীরতা কমে যাওয়ায় বর্ষাকালে দ্রুত পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলের নদী নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে স্টাডির আহ্বান জানান তিনি।

তিস্তার বালুচরে এখন সবুজের সমারোহ

রংপুরে বেড়েছে জ্বালানি সংকট, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা

অযত্নে ধ্বংসের মুখে রংপুর চিনিকল

রংপুরে বেড়েছে জ্বালানির সংকট, নষ্ট হচ্ছে কর্মঘণ্টা

অদৃশ্য চাপে গরুর গোশত বিক্রি নিষিদ্ধ, আ.লীগের সময় থেকে চলছে এ রীতি

গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে লিফলেট বিতরণ

রংপুর বিভাগে বাড়ছে হাম উপসর্গে রোগী ভর্তি, শনাক্ত ১৩

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু, আহত ৩

পার্বতীপুরে শিশুকে হত্যার দায়ে যুবক আটক