কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় ভিন্ন বাস্তবতায় চলছে বোরো ধান কাটার কাজ। কোমরসমান পানিতে নেমে পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা একসঙ্গে পাকা ধান কেটে সংগ্রহ করছেন। কোথাও হাঁড়ি-পাতিল ভাসিয়ে ধান বহন করা হচ্ছে। এমন দৃশ্য এখন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চোখে পড়ছে, যা গ্রামীণ জীবনের সংগ্রাম ও কৃষকের নিরলস পরিশ্রমের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে।
উপজেলার সদর বালাপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নিজপাড়া কামারটারী এলাকার কৃষক প্রাণ কৃষ্ণ জানান, শ্রমিক সংকট ও অতিবৃষ্টির কারণে তার জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়েই পানিতে নেমে ধান কাটছেন তিনি।
তিনি বলেন, “শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আর যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি অনেক বেশি। এর মধ্যে টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে ধান ডুবে গেছে। দেরি করলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে, তাই পরিবারের নারী-পুরুষ সবাইকে নিয়েই মাঠে নেমেছি।”
স্থানীয় কৃষকরা জানান, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও জমিতে পানি জমে থাকায় যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়েই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পানির মধ্যে নেমে ধান কাটতে হচ্ছে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি লাগছে। তবে কষ্ট হলেও ফসল ঘরে তুলতে বিকল্প কোনো পথ নেই।
কৃষকদের কেউ কোমরপানিতে দাঁড়িয়ে ধান কাটছেন, আবার কেউ হাঁড়ি-পাতিল কিংবা ছোট পাত্র ভাসিয়ে কাটা ধান জমি থেকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। অনেক এলাকায় পানি না নামায় কাটা ধান শুকানো নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন দুশ্চিন্তা।
স্থানীয় কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিকূল পরিবেশেও কৃষকদের এই অক্লান্ত পরিশ্রম দেশের খাদ্য উৎপাদন সচল রাখছে। গ্রামের মাঠে এমন দৃশ্য কৃষকের সংগ্রামী জীবন, কঠোর পরিশ্রম ও বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।
তারা আরও জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে এবং পানি দ্রুত নেমে না গেলে কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাই কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা ও দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ।