‘জুলাই ঐক্য’র আলোচনা সভায় শিশির মনির
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার বিকেলে সিলেট নগরীর দরগাগেইটস্থ কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস)-এর শহীদ সুলেমান হলে ‘গণরায় বাস্তবায়ন ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। কিন্তু প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ক্ষমতা আবারও একটি গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হবে। এতে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়বে এবং এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরে আসতে পারে।
শিশির মনির বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, “যারা তাদের রক্ষা করে, তাদেরকেই বিএনপি রক্ষা করতে পারে না।” তিনি দাবি করেন, অতীতের মতো সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের পরও দলটি তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে জাতীয় সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
এছাড়া ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংখ্যানুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠনের কথাও উল্লেখ আছে। কিন্তু এসব বাস্তবায়নের পরিবর্তে গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও গণঅভ্যুত্থান ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সঠিক প্রতিষ্ঠান ও দক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিলে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ডা. ইসমাঈল পাটোয়ারী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের পথ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মুকতাবিস-উন-নূর, যিনি সিলেট প্রেসক্লাব-এর সভাপতি ও দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার সম্পাদক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভাষা সৈনিক অধ্যক্ষ মাসউদ খান, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, জামায়াত নেতা মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, মাওলানা হাবিবুর রহমান, এমরান আলম, মোহাম্মদ শাহজাহান আলী, নেসারুল হক চৌধুরী এবং দেলোয়ার হোসেন শিশির।
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জুলাই ঐক্য সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক ড. নূরুল ইসলাম বাবুল। এছাড়া বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ গোলাম রব্বানী, ডা. হোসাইন আহমদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিনসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার এবং সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আলিফ নুর।
সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস-উন-নূর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তাক্ত দিনগুলো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। শহীদ ও আহতদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন না হলে ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। তিনি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে দেশের স্বার্থে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।