হোম > ফিচার > আমার জীবন

বৈশাখীর মেলায় যাই রে....

বিউটি হাসু

পহেলা বৈশাখ মানেই নারীদের পরনে লাল-সাদা শাড়ি আর পুরুষের সাদা কিংবা রঙিন পাঞ্জাবি। মেলায় ঘোরাঘুরি করে মুড়ি-মুড়কি, খই, মুরালি, সাজ-বিন্নি, বাতাসা খাওয়া; আর বায়োস্কোপ ও পুতুলনাচ দেখা। শৈশবে আমাদের স্মৃতিতে পহেলা বৈশাখের আয়োজন ছিল এমনই। মামার হাত ধরে মেলায় গিয়ে প্লাস্টিক বা মাটির হাঁড়ি-পাতিল ও পুতুল-ঘোড়া খেলনা কেনা; মচমচে গরম গরম জিলাপি, মজাদার সাজ-বিন্নি, বাতাসা আর হাওয়াই মিঠাই খাওয়া। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল হাতি-ঘোড়া সদৃশ সাজ (বাতাসা) কেনা।

গ্রামের সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের বাংলা সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পহেলা বৈশাখ ঘিরে নানা আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় বসেছে বৈশাখী মেলা।

নব্বই দশকের শিশুদের মতো এখনকার শিশুরা সেসব উপভোগ করতে পারে না। তাই পহেলা বৈশাখ ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তে বসছে নানা আয়োজনে মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, খাবার আর গ্রামীণ খেলাধুলার সমারোহ। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে এসব উপভোগ করতে পারেন। রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসংলগ্ন) জমে উঠেছে বৈশাখী মেলা।

বিসিক বৈশাখী মেলা :

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল (১-৭ বৈশাখ) পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা ১৪৩৩’ আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই মেলায় থাকছে দেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের বিশাল সমাহার। নকশিকাঁথা, মাটির পণ্য, বাঁশ-বেতের কাজ, গৃহসজ্জার সামগ্রী—সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে একই জায়গায়।

এই মেলায় বিভিন্ন ধরনের শৌখিন কারুপণ্য, লোকজ পণ্য, চামড়া ও পাটজাত পণ্য, জিআই পণ্য (জামদানি, শীতলপাটি) এবং মাটির তৈরি নানারকম জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। এ মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে।

বৈশাখী মেলা বেশ জমে উঠেছে। এ মেলায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা উদ্যোক্তা ও কারুশিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী পণ্য নিয়ে ১৬০টি স্টল বসেছে। এসব স্টলে পাওয়া যাচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প, জামদানি, নকশিকাঁথা, শতরঞ্জি ও মণিপুরি শাড়ি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে উদ্যোক্তারা তাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য নিয়ে মেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। মেলা ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের পণ্য সম্পর্কে ও দাম জানা যায়।

উদ্যোক্তা হালিমা হাতে সেলাইয়ের নকশা করা বিভিন্ন ধরনের থ্রিপিস, টুপিস ও শাড়ি নিয়ে জামালপুর থেকে এসেছেন। তার স্টলে সুতি ও ভয়েল কাপড়ে কাজ করা আনস্ট্রিস পোশাক রয়েছে। এই স্টলে ৬০০ থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের পণ্য রয়েছে।

রুদ্র এসেছেন নেত্রকোণা থেকে। তার স্টলে সুতার তৈরি ঘরের পর্দা ও বিভিন্ন শৌখিন জিনিস রয়েছে। এসব পণ্যের মূল্য ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

পারভীন আক্তার এসেছেন রাজশাহীর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। তার স্টলে বিভিন্ন ধরনের নকশিকাঁথা ও শতরঞ্জি রয়েছে। শতরঞ্জির দাম ১০০ টাকা থেকে শুরু হয়েছে। আর নকশিকাঁথার দাম এক হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে।

আয়েশা আকতার এসেছেন কমলাপুর থেকে। তার স্টলে পাট ও বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ স্টলের বিক্রেতা আনোয়ার জানান, তাদের স্টলে ২০০ থেকে দুই হাজার টাকার পণ্য রয়েছে।

শামীম চৌধুরী এসেছেন পটুয়াখালী থেকে। তার স্টলে বিভিন্ন ধরনের হেট ও শোপিস রয়েছে। এসব শৌখিন পণ্য তৈরি করা হয় হোগলা পাতা, সন ও খেজুরপাতা দিয়ে।

দিলারা আমজাদের স্টলে ঘর সাজানোর বিভিন্ন ধরনের শৌখিন পণ্যদ্রব্য রয়েছে। তিনি রাজধানীর শাহজাহানপুর থেকে এসেছেন। ১০ জন মেয়ে নিয়ে তিনি নিজেই এসব তৈরি করে থাকেন।

বাঁশের তৈরি বিভিন্ন শৌখিন পণ্য নিয়ে কাজী মাজহারুল এসেছেন ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে। তার স্টলে ২০০ থেকে দুই হাজার টাকা মূল্যের পণ্য রয়েছে।

মেলায় খাবারের বেশ কয়েকটি স্টল রয়েছে। তবে সারা মেলায় একটি মাত্র বড় দোকানে খই, বাতাসা, সাজ, নিমকি, মুরালি, মোয়া ও বিভিন্ন ধরনের শুকনো খাবার পাওয়া যাচ্ছে। এসব খাবারের দাম তুলনামূলক বেশি। এসব খাবার গড়ে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া মেলায় বিনোদনের ব্যবস্থাও রয়েছে। মেলায় থাকছে পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, কারুশিল্পী জোন, শিশুদের রাইড ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পরিবার নিয়ে খুব সহজেই মেলায় ঘুরে আসতে পারেন।

গরমেও স্বস্তিপ্রদ রান্না

বৈশাখের তপ্ত দুপুরের পানীয়

বৈশাখী আনন্দে মেতে উঠুক সোনামণিরা

সুবর্ণগ্রামে একদিন...

বাঙালি সবসময় ভোজনরসিক

পর্যটন আইন

শিশুর উপযুক্ত পড়ার ঘর

বই পড়ার অভ্যাস থাকুক সারাজীবন

কাঠের আসবাবপত্র সুরক্ষায়…

ঈদে ভিন্ন স্বাদের ঝাল-মিষ্টি খাবার