হোম > সাহিত্য সাময়িকী > বাংলার ইতিহাস

সিলেটের আধ্যাত্মিক অভিভাবক হজরত শাহজালাল

ডা. জেমস ওয়াইজ

আহমাদ ফাহমি

২০ শতকের শুরুতে সিলেটের শাহজালাল মসজিদ

ডা. জেমস ওয়াইজ ছিলেন ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত ঢাকার সিভিল সার্জন। জন্ম স্কটল্যান্ডে হলেও পারিবারিক সূত্রে তিনি বাংলায় বসবাস করতেন। বাংলার ইতিহাস নিয়ে তিনি একটি বই ও বেশ কয়েকটি গবেষণাপ্রবন্ধ লিখেছেন। তার রচিত Notes on the Races, Castes and Trades of Eastern Bengal (পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন জাতি, বর্ণ ও পেশার বিবরণ নামে বাংলায় অনূদিত) গ্রন্থটি বোদ্ধামহলে সমাদৃত। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি হলো বাংলার বারো ভূঁইয়াদের নিয়ে অনুসন্ধানী প্রবন্ধ—On the Bárah Bhúyas of Eastern Bengal। এই প্রবন্ধের মাধ্যমে বারো ভূঁইয়াদের আলোচনা নতুন করে সামনে আসে। তার Note on Shah Jalál, the patron saint of Silhat প্রকাশিত হয় ১৮৭৩ সালে, এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গলের জার্নালে।

চতুর্দশ শতকে সিলেট-বিজেতা হজরত শাহজালালের জীবন ও অলৌকিক ঘটনাবলির সংক্ষিপ্ত যে বিবরণ এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তার মূল সূত্র হলো ‘সুহাইলে ইয়ামান’ নামের একটি গ্রন্থ। গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন সিলেটের সাবেক মুনসিফ নাসিরুদ্দিন; এটি তিনি ১৮৫৯ সালে রচনা করেন। এই গ্রন্থটি মূলত আরো প্রাচীন দুটি ইতিহাসগ্রন্থের সারসংক্ষেপ। একটির নাম ‘রিসালায়ে মুহিউদ্দিন খাদিম’, অপরটি ‘রওজাতুস সালাতিন’, যার রচয়িতা অজ্ঞাত।

শৈশব

মুনসিফের বর্ণনা অনুযায়ী, শাহজালাল মুজাররিদ ইয়ামানি ছিলেন কুরাইশ বংশোদ্ভূত এক বিশিষ্ট সাধক ও শাইখুশ শুয়ুখের পুত্র। তার নাম মুহাম্মদ; দাদার নাম মুহাম্মদ ইবরাহিম। তার মা ছিলেন নবী বংশের সন্তান (সায়্যিদা)। শাহজালালের জন্মের তিন মাসের মধ্যে তার মা ইন্তেকাল করেন। আর অবিশ্বাসী কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে গিয়ে তার বাবা শহীদ হন। শৈশবে তাকে লালন-পালন করেন মামা সায়্যিদ আহমদ কবীর সোহরাওয়ার্দী; তিনি ছিলেন একজন কৃতিত্বসম্পন্ন দরবেশ। তিনি প্রসিদ্ধ সাধক শাহ জালালুদ্দিন বুখারীর শিষ্যত্ব লাভ করেছিলেন।

নির্জনবাস ও বাঘ তাড়ানোর ঘটনা

শাহজালাল ৩০ বছর ধরে একটি গুহায় অবস্থান করেন এবং এ সময় তিনি কখনো গুহা থেকে বের হননি। অবশেষে এক বিশেষ ঘটনার কারণে মামার অনুরোধে তাকে বাইরে বের হয়ে আসতে হয়। ঘটনাটি এমন—সায়্যিদ আহমদ একদিন মক্কায় নিজ বাড়ির সামনে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। তখন সেখানে একটি গর্ভবতী হরিণী এসে উপস্থিত হয়। হরিণীটি জানায়, যে বনে সে বসবাস করে, সেখানে একটি সিংহ চলে এসেছে এবং তার সহচরদের হত্যা করছে। সে দরবেশকে অনুরোধ জানায়, যেন তিনি এসে ওই হিংস্র প্রাণীটিকে বিতাড়িত করে তাদের রক্ষা করেন। হরিণীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে শাহজালালকে গুহা থেকে বের করে সিংহ তাড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পথে যেতে যেতে তিনি চিন্তা করতে থাকেন—সিংহের মুখোমুখি হলে কী করা উচিত। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি প্রাণীটির মুখোমুখি হন। তার চোখ থেকে নির্গত জ্যোতির তীব্রতায় সিংহটি আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যায় এবং আর কখনো তার দেখা পাওয়া যায়নি। তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন।

মামার নির্দেশ

তার কৃতিত্বে সন্তুষ্ট হয়ে মামা সায়্যিদ আহমদ তার হাতে এক মুঠো মাটি তুলে দেন এবং বলেন, তিনি যেন পৃথিবীর পথে বেরিয়ে পড়েন এবং এই মাটির অনুরূপ রঙ ও গন্ধের ভূমির সন্ধান করেন, যেখানে তিনি এমন ভূমি খুঁজে পাবেন, সেটা হবে তার স্থায়ী আবাস।

ইয়েমেনের রাজার ঘটনা

সেকালে হিন্দুস্তান ছিল অভিযাত্রীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। শাহজালালও সেই পথেই অগ্রসর হন। যাত্রাপথে তিনি ইয়েমেনের এক নগরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন। সেই নগরের রাজা খবর পান, এক মহৎ দরবেশ তার সন্নিকটে অবস্থান করছেন। তাকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে রাজা শরবতের পরিবর্তে এক পাত্র মারাত্মক বিষ পাঠান। শাহজালাল সঙ্গে সঙ্গেই পাত্রের পানীয়ের ধরন বুঝে ফেলেন এবং রাজার দূতদের জানিয়ে দেন—তিনি এই শরবত পান করা মাত্রই রাজা মৃত্যুবরণ করবেন। তিনি পাত্রের বিষ পান করেন, তার কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু তার ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, রাজা তৎক্ষণাৎ মারা যান।

হিন্দুস্তানে শাহজালাল

শাহজালাল অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখেন। কিন্তু চার দিন পরেই এক শাহজাদা তার কাছে আসেন। তিনি রাজ্য ত্যাগ করে তার সফরসঙ্গী হওয়ার সংকল্প করলেন। অনেক দিনের সফর শেষে তারা দিল্লিতে পৌঁছান। দিল্লিতে সে সময় বিখ্যাত সাধক নিজামুদ্দিন আউলিয়া অবস্থান করছিলেন। শাহজালাল যখন নগরে প্রবেশ করেন, তখনই নিজামুদ্দিন আধ্যাত্মিকভাবে তার আগমনের উপস্থিতি অনুভব করেন। তিনি লোক পাঠিয়ে তাকে খুঁজে বের করে আহারের নিমন্ত্রণ জানাতে বলেন। শাহজালাল নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং দূতদের হাতে একটি বোতল তুলে দেন। বোতলটি ছিল তুলায় পূর্ণ, আর তার কেন্দ্রস্থলে স্থাপন করা হয়েছিল একটি জ্বলন্ত অঙ্গার। এই বিস্ময়কর বস্তুটি পেয়ে নিজামুদ্দিন নিশ্চিত হন যে, শাহজালাল কোনো সাধারণ দরবেশ নন। ফলে তিনি তাকে যথোচিত সম্মান ও মর্যাদায় আপ্যায়ন করেন এবং বিদায়ের সময় তাকে একজোড়া কালো কবুতর উপহার দেন।

গরু কোরবানি ও বুরহানুদ্দিনের শাস্তি

এ পর্যায়ে মুনসিফের বর্ণনা সিলেটকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে। সিলেট শহরের টোল-তকর (Tol-takar) মহল্লায় তখন শেখ বুরহানুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বসবাস করতেন। কীভাবে একজন মুসলমান সেখানে গিয়ে বসবাস করতে লাগলেন, কিংবা নিজের সম্প্রদায় থেকে এত দূরে তিনি কী করছিলেন—এসব প্রশ্ন (রিসালায়ে মুহিউদ্দিন খাদিম গ্রন্থের রচয়িতা) মুহিউদ্দিনকে ভাবনায় ফেলে দেয়। তিনি ধারণা করেন, এই একাকী ইমানদার মুসলমান হয়তো কোনো হিন্দু পরিবারভুক্ত ছিলেন এবং প্রকৃত মুসলমান ছিলেন না।

মুনসিফের বর্ণনায় বলা হয়, বুরহানুদ্দিন মানত করেছিলেন—যদি তার পুত্রসন্তান জন্ম নেয়, তবে তিনি গরু কোরবানি করবেন। পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করলে তিনি সেই মানত পূরণ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, চিল মাংসের একটি অংশ তুলে নিয়ে গিয়ে এক ব্রাহ্মণের বাড়িতে ফেলে দেয়। এতে রেগে গিয়ে ব্রাহ্মণ সিলেটের রাজা গৌড়গোবিন্দের নিকট অভিযোগ জানায়। রাজা বুরহান ও তার শিশুপুত্রকে তলব করেন; এবং বুরহান গরু জবাই করার কথা স্বীকার করলে শিশুটিকে মৃত্যুদণ্ড ও পিতার ডান হাত কেটে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর বুরহানুদ্দিন সিলেট ত্যাগ করে গৌড়ের দরবারে উপস্থিত হন। সেখানের রাজা ঘটনাটি শুনে তার ভাতিজা সুলতান সিকান্দারকে নির্দেশ দেন—সে যেন সৈন্যবাহিনী নিয়ে দেরি না করে ব্রহ্মপুত্র ও সোনারগাঁওয়ের দিকে অগ্রসর হয়।

সুলতান সিকান্দারের সৈন্যবাহিনী

সৈন্য নিয়ে সুলতান সিকান্দারের এগিয়ে আসার সংবাদ সিলেটে পৌঁছায়। তখন গৌড়গোবিন্দ, যিনি প্রভাবশালী জাদুকর হিসেবেও বিখ্যাত ছিলেন, অসংখ্য দানব-প্রেত সমাবেশ করে তাদের আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন। যুদ্ধে মুসলমানরা পরাজিত হয় এবং সুলতান সিকান্দার ও বুরহানুদ্দিন পালিয়ে আসেন। যুবরাজ চাচাকে পত্র লিখে পরাজয়ের সংবাদ এবং এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার দুরূহতা সম্পর্কে অবহিত করেন।

শাহজালালের সহায়তা ও সিলেট জয়

এই সংবাদ পেয়ে সম্রাট জ্যোতিষী ও জাদুকরদের সমবেত করেন এবং নতুন অভিযানে কী ফল হবে, তা পূর্বাভাস দিতে বলেন। তাদের উত্তর ছিল উৎসাহব্যঞ্জক। অতএব নাসিরুদ্দিন সিপাহসালারকে নির্দেশ দেওয়া হয়, তিনি যেন একটি বাহিনী নিয়ে সুলতান সিকান্দারের সহায়তায় অগ্রসর হন। কিন্তু এই অতিরিক্ত বাহিনীও মুসলমান সৈন্যদের মধ্যে সাহস সঞ্চার করতে ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—শাহজালালের সঙ্গে পরামর্শ করা প্রয়োজন, যিনি সে সময় ৮৬০ জন দরবেশসহ নিজ উদ্যোগে কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করছিলেন। সুলতান ও সিপাহসালার নাসিরুদ্দিন তখন দরবেশদের শিবিরের উদ্দেশে রওনা দেন।

সেখানে শাহ (জালাল) তাদের একটি নির্দিষ্ট দোয়া বারবার পাঠ করে সাহস জোগালেন এবং প্রতিশ্রুতি দিলেন—তিনি তাদের বাহিনীতে যোগ দিয়ে এতদিন জয়ী হয়ে আসা গৌড়গোবিন্দের দানববাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন। শাহের সঙ্গে ছিলেন সায়্যিদ মুহাম্মদ কবীর, সায়্যিদ হাজী আহমদ সানি, শেখ আবুল মুজাফফর, কাজী আমিনুদ্দিন মুহাম্মদ, শাহজাদা ইয়ামানি প্রমুখ।

গৌড়গোবিন্দের পলায়ন

এই দরবেশবাহিনীর অগ্রযাত্রা ছিল অপ্রতিরোধ্য। দানবেরা তাদের প্রতিরোধ করতে পারল না; গৌড়গোবিন্দ এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পিছু হটতে হটতে শেষ পর্যন্ত জাদুবলে নির্মিত সিলেটের একটি সাততলা মন্দিরে আশ্রয় নিল। আক্রমণকারীরা সেই মন্দির ঘিরে ফেলল, আর শাহজালাল সারাদিন দোয়া করতে থাকলেন। তার দোয়া খুবই কার্যকর ছিল, প্রতিদিন মন্দিরের একটি করে তলা ধসে পড়তে লাগল এবং চতুর্থ দিনে দেশত্যাগের অনুমতির শর্তে গৌড়গোবিন্দ আত্মসমর্পণ করল।

শর্ত অনুযায়ী গৌড়গোবিন্দ পাহাড়ি অঞ্চলে (কোহিস্তান) সরে যায়। এদিকে দীর্ঘ প্রার্থনারত অবস্থায় শাহজালাল লক্ষ করেন—যে মাটির ওপর তিনি সিজদা করছেন, তার রঙ ও গন্ধ তার মামার দেওয়া মাটির মতোই—এক ও অভিন্ন। অতএব তিনি সেখানেই নিজের স্থায়ী আবাস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। তার সঙ্গে থেকে যান শাহজাদা ইয়ামানি, হাজী ইউসুফ এবং হাজী খলিল; অপরদিকে বাকি দরবেশরা সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে ফিরে যান।

শাহজালালের জীবনের অলৌকিক ঘটনা

শাহজালালের জীবনের অবশিষ্ট অংশ অতিবাহিত হয় ইবাদত-বন্দেগি ও নানা অলৌকিক ঘটনার মধ্য দিয়ে, সেগুলো আজও লোককথায় জীবন্ত হয়ে আছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, তিনি কখনো কোনো নারীর মুখের দিকে তাকাননি। তবে একদিন একটি পুকুরের পাড়ে দাঁড়িয়ে তিনি এক নারীকে স্নান করতে দেখেন। সরলচিত্তে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, ওই অদ্ভুত জিনিসটা কী? তাকে জানানো হয়, সে একজন নারী। তখন তিনি রেগে গিয়ে দোয়া করেন—পানি যেন বৃদ্ধি পেয়ে তাকে ডুবিয়ে দেয়। তার এই বাক্য উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গেই পানি বেড়ে গিয়ে সেই নারীকে ডুবিয়ে দেয়।

এছাড়া তার সম্পর্কে আরো কিছু অপেক্ষাকৃত কম বিতর্কিত অলৌকিক ঘটনার কথাও বর্ণিত হয়েছে। যেমন—নাসিরুদ্দিন সিপাহসালার, যিনি সিলেটে মৃত্যুবরণ করেছিলেন, তার মৃতদেহ শোকাহত স্বজনদের সামনে একটি মসজিদ থেকে তিনি অদৃশ্য করে দেন।

অন্য এক ঘটনায় আছে, তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেন যে, তার আবাসের কাছে যেন মক্কার পবিত্র জমজম কূপের মতো একটি ঝরনা উৎসারিত হয় এবং সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে একটি ঝরনা বেরিয়ে আসে।

শাহজালালের ইন্তেকাল ঘটে ‘কালীচাঁদ’ (জিলকদ?) মাসের ২০ তারিখে, হিজরি ৫৯১ সালে। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৬২ বছর।

ডা. ওয়াইজের পর্যবেক্ষণ

এক. ডা. ওয়াইজ লিখেছেন, ‘একটি কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, সিলেটের গাঁজাসেবীরা শাহ (জালাল)-এর নাম জপ করে। আমার কাছে সিলেটের এক উন্মাদ ব্যক্তি রয়েছে, যে প্রতিদিন চিলুমে তামাক ভরে পানের আগে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে শাহজালালকে স্মরণ করে—

‘হো! বিশেস্বর লাল,

তিন লাখ পীর শাহজালাল,

এক বার, দোবারা, জগন্নাথজী কা পিয়ারা,

খানে কা দুধভাত, বাজানে কো দোতারা।’

দুই. ডা. ওয়াইজের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শাহজালালের জীবনের কালপঞ্জি (chronology) অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। আগের বিবরণে তার মৃত্যুসাল নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯১ হিজরি; অথচ বলা হয়, তিনি নিজামুদ্দিন আউলিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন, যার মৃত্যু হয় ৭২৫ হিজরিতে। আবার সিলেটে প্রচলিত লোককথা অনুযায়ী, এই অঞ্চলটি শেষ হিন্দু রাজা গৌড়গোবিন্দের কাছ থেকে অধিকার করেন রাজা শামসুদ্দিন, ১৩৮৪ খ্রিষ্টাব্দে বা ৭৮৬ হিজরিতে, সিকান্দার শাহের শাসনামলে। অথচ ‘রাজা শামসুদ্দিন’ বলতে এখানে কেবল শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহকেই বোঝানো সম্ভব, যিনি সিকান্দারের পিতা।

তিন. ইবনে বতুতা প্রদত্ত এক বিবরণের দিকেও ডা. ওয়াইজ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি সাদকাওয়ান (চাটগাঁও) থেকে কামরুর পর্বতমালা (অর্থাৎ কামরূপ, পশ্চিম আসাম)-এর উদ্দেশে যাত্রা করেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল একজন দরবেশের সাক্ষাৎলাভ, যিনি হলেন তাবরিজের শেখ জালালুদ্দিন। পরবর্তী সময়ে জালালুদ্দিন আরেক দরবেশ ‘বুরহানুদ্দিন’-এর একটি পোশাক ইবনে বতুতার কাছ থেকে গ্রহণ করেন, যার সঙ্গে ইবনে বতুতা পরে খানবালিকে (পেকিং) সাক্ষাৎ করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ইবনে বতুতা যখন পূর্ববঙ্গে অবস্থান করছিলেন, সে সময় ফখরুদ্দিন এই অঞ্চলে রাজত্ব করছিলেন (৭৩৯ থেকে ৭৫০ হিজরি)। কিন্তু এখানেও তারিখ ও নামের ক্ষেত্রে ব্যাপক বিভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়। তাবরিজের জালালুদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন ৬৪২ হিজরিতে; অন্যদিকে সিলেটের শাহজালালকে উপস্থাপন করা হয় ইয়েমেনের একজন সাধক হিসেবে। তদুপরি, ‘জালাল’ কিংবা ‘বুরহানুদ্দিন’—এই নাম দুটি মুসলিম দরবেশদের প্রচলিত জীবনীগ্রন্থগুলোয় উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপস্থিত।

বঙ্গে মুসলিম অভিবাসন

প্রাচীন ইতিহাসে চট্টগ্রাম

ইকলিম মুবারাকাবাদ ও ঢাকায় মুসলিম সমাজ

হায়াত মাহমুদ ও মিয়াবাড়ি মসজিদ

নান্দনিক সৌন্দর্যের খেরুয়া মসজিদ

আনন্দ-বেদনার প্রতিফলন

সেনযুগে বাংলার সামাজিক অবক্ষয়

২৫ ফেব্রুয়ারি

প্রজ্ঞার প্রমাদ ও একাকিত্বের আখ্যান

একজন হাবিবুর রহমান