বাংলার সুলতানি আমলের স্থাপত্য রীতিতে যে মসজিদগুলো গড়ে উঠেছে, তার অন্যতম হলো খেরুয়া মসজিদ। মসজিদের সামনে রয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা আয়তাকার খোলা মাঠ। চারদিকে লোহার রেলিং। আশপাশের নারকেল, আম, কদম এবং মৌসুমি ফুল ও ফলের গাছের সারি নিরিবিলি ও পরিচ্ছন্ন প্রাঙ্গণটি খুব মনোরম করে তুলেছে।
মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে ৪৪৪ বছর আগে। মসজিদটির চার কোণে প্রকাণ্ড চারটি মিনার এবং ছাদের ওপর রয়েছে তিনটি গম্বুজ। দেয়ালের ইটে খোদাই করা নকশা ক্ষয়ে গেলেও এর অপূর্ব শৈলী এখনো বিদ্যমান। অংশে মেহরাব তিনটি চমৎকার কারুকার্যখচিত। প্রবেশদ্বারের দুপাশের দেয়ালে দুটি শিলালিপি ছিল। বাঁ পাশেরটি এখনও অক্ষত আছে, ডান পাশেরটি পাকিস্তানের করাচি জাদুঘরেরংরক্ষণ করা হয়েছে। মসজিদের সামনে একটি কবর রয়েছে। খোদাই লিপি অনুযায়ী, এটি আবদুস সামাদ ফকিরের কবর।
মসজিদটির দেয়ালে সংস্থাপিত শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান কাকশালের পৃষ্ঠপোষকতায় আবদুস সামাদ ফকির মসজিদটি নির্মাণ করেন। ঘোড়াঘাটের অধীনে তৎকালীন শেরপুর একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল। অনুমান করা হয়, মির্জা মুরাদ খান শেরপুরের জায়গিরদার বা ফৌজদার ছিলেন। খেরুয়া মসজিদের নামকরণ স্পষ্ট নয়। ধারণা করা হয়, রাজা মানসিংহ এখানে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। যদি ধরে নেয়া হয় যে, এই মসজিদটি দুর্গের ভেতরে ছিল, তবে ‘খায়ের গাহ’ (কোনো স্থানের ভেতরে) শব্দ থেকে মসজিদটির নাম খেরুয়া হতে পারে। মসজিদটি নিয়ে বিশদ গবেষণা করলে এর সম্পর্কে আরো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশী সভ্যতার বিকাশে মসজিদটি তাৎপর্যপূর্ণ।
সুলতানি আমলের অন্তিম পর্বে এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। ৪০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মসজিদটি টিকে আছে। বগুড়ার শেরপুর উপজেলা সদরের খোন্দকার টোলা মহল্লায় মসজিদটির অবস্থান।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে থাকলেও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে মসজিদটির অবস্থা দিনকে দিন খারাপ হয়ে পড়ছে। দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা জানান, ছাদের ফাটল দিয়ে মসজিদের ভেতরে বৃষ্টির পানি পড়ে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে মসজিদের আঙিনা বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায়। আধুনিক নির্মাণ পরিকল্পনার ছোঁয়ায় মসজিদটি সংস্কার করা হলে দর্শনার্থীর ভিড়ে এটি আরো প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া