হোম > সাহিত্য সাময়িকী > সংবাদ

সন্তানদের নিয়ে এলেন বাবা-মা, চান বইয়ের সঙ্গে বন্ধন বাড়াতে

মাহমুদুল হাসান আশিক

মোবাইল ফোন, ট্যাব আর বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ভিড়ে শিশুদের শৈশব ক্রমেই যেন বই থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সেই দূরত্ব কমাতে অনেক অভিভাবকই সন্তানদের নিয়ে এসেছেন অমর একুশে বইমেলার শিশুপ্রহরে। বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করা, পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সুস্থ ও সুন্দর মানসিক বিকাশের প্রত্যাশা থেকেই শিশুদের নিয়ে বইমেলায় এসেছেন তারা।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিন বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্তানদের নিয়ে এসেছেন অভিভাবকেরা। এ সময় সন্তানদের নিয়ে স্টলে স্টলে ঘুরতে দেখা যায় তাদের। কেউ বই কেনেন, আবার কেউ ছবি তোলেন। কেউ সন্তানদের নিয়ে পাপেট শো ও পুতুলনাচ দেখেন। শিশুরা কিডস জোনে খেলছে, অঙ্কন প্রতিযোগিতায়ও অংশ নেয় কেউ কেউ।

মহাকাল প্রকাশনীর স্টলে দাঁড়িয়ে ‘আল্লাহ আমার রব’ বইটি খুলে দেখে শিশু মারিয়া ইসলাম মানহা। এর আগে সে দেখেছে ‘আমার নবী বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)’। লালবাগ থেকে সে এসেছে বাবা-মা ও খালা ফাতেমাতুজ জোহরার সঙ্গে। মানহার জন্য তিনি কিনেছেন ‘আরোশির জোরাই বন্ধু’, রঙিন, ম্যাজিক বুকসহ কয়েকটি বই।

ফাতেমা বলেন, জীবনে প্রথম মানহার বইমেলায় আসা। সে যেন আমাদের মতো বই পড়ুয়া হয়, সেজন্য মেলায় নিয়ে এসেছি।

খিলগাঁও থেকে দুই সন্তান ইরিন হোসেন ও নিলুফা হোসেন এবং ভাগনি আয়েশা সিদ্দিকাকে নিয়ে বইমেলায় এসেছেন ইমান হোসেন। প্রতি বছরই তিনি সন্তানদের নিয়ে বইমেলায় আসেন বলে আমার দেশকে জানান। তিনি বলেন, শিশুতোষ ইসলামি ইতিহাসের বই ওদের কিনে দেই। অপসংস্কৃতি যেন সন্তানদের কোনোভাবে প্রভাবিত করতে না পারে, সেজন্য ইসলামি সংস্কৃতি নিয়ে যেসব বই, সেসবের সঙ্গে ওদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।

শিশু ফাতিমা করিম তাজকিয়াকে নিয়ে এসেছেন তার মা আফসানা চৌধুরী। আফসানা বলেন, বই পড়ার আগ্রহ বাড়ানোর জন্য এবং বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে ওকে বইমেলায় নিয়ে এসেছি। ওরা সাধারণত গ্যাজেট নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ওদের গ্যাজেট থেকে যেন বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করা যায়, তাই বইমেলায় নিয়ে আসা।

শিশু তাজকিয়া কিনেছে ‘মোহাম্মদ দ্য লাস্ট প্রোফেট’, ‘নট এভরি ওয়ান ক্যান ফ্লাই’ ও ‘বিজ্ঞানের তেলেসমাতি’।

একই উদ্দেশ্য নিয়ে হাজারীবাগ থেকে দুই শিশু সন্তান উম্মে হানি বিনতে বোরহান ও উনাইসা বিনতে বোরহানকে নিয়ে এসেছেন মোসলিমা খাতুন। তিনি তার ছয় ও ৯ বছরের দুই শিশুকে কিনে দিয়েছেন ‘শিশুদের শৈশবের চারিত্রিক গঠন’সহ কিছু শিশুতোষ ইসলামি গল্প ও ছড়ার বই। তিনি বলেন, বাচ্চাদের বইকেন্দ্রিক করে তোলার জন্য এবং তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য শৈশব থেকেই বই ও বইমেলার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।

মিরপুর থেকে শিশু মুনতাসির তালহাকে নিয়ে এসেছেন তার বাবা আবু সাঈদ পলাশ। সাঈদ আমার দেশকে বলেন, গত বছরও তালহাকে মেলায় নিয়ে এসেছিলাম। এবার খবরে দেখার পর ও নিজেই আমাকে জোর করে নিয়ে এলো। এ সময় বাবাকে থামিয়ে দিয়ে তালহা বলে ওঠে, ‘সবই গল্পের বই কিনেছে, আমি পাজল কিনেছি। বিশ্বনবী মুহম্মদ (সা.)-এর জীবন কাহিনী কিনেছি। আমি অনেক পড়ব।’

গাজীপুরের তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল সা’দ এসেছে বাবা তাজউদ্দীন ও মা সালমা খানম দিধার সঙ্গে । সে বলে, বই পড়লে সময় ভালো কাটে। সেজন্য অনেক বই কিনেছি। এর মধ্যে রয়েছেÑলাভায় লালশাক পুবের আকাশ, জ্বীন কন্যা, গোরস্থানের পিশাচ, অভিশপ্ত রাত, অভিশপ্ত মুনাকবার, বিড়াল কন্যাসহ কয়েকটি বই।

গোলাপবাগ থেকে আলেয়া খাতুন এসেছেন সন্তান জান্নাতুল রাইয়ান রোজাকে নিয়ে। রোজার জন্য পরীর দেশে, আয়েশা মনি, সেরা হাসির গল্প, ভুতের গল্পসহ বেশ কয়েকটি শিশুতোষ বই কিনেছেন তিনি। আলেয়া আমার দেশকে বলেন, আমার সন্তানের মন যেন বিকশিত হয়, সেজন্য বইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এতে চিন্তাধারা উন্নত ও উন্মুক্ত হবে। সেজন্যই বইমেলায় নিয়ে আসা।

শনির আখড়া থেকে রফিকুল আলম এসেছেন শিশু রাইফা নুরকে নিয়ে। তিনি রাইফার জন্য কিনেছেন কমিকস, বর্ণমালার গল্প ও নবীজির বাণী নিয়ে শিশুতোষ ইসলামি বই। তিনি আমার দেশকে বলেন, বইয়ের প্রতি ঝোঁক বাড়াতে বইমেলায় নিয়ে এসেছি। এখানে একটু খেলবে, ঘুরবে, বই দেখবেÑএতে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

হাজারীবাগ থেকে শিশু আনাবিয়া মুনতাসা অরিনকে নিয়ে বইমেলায় আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, টিভিতে বইমেলা দেখেই অরিন বলেছে বইমেলায় যাবে। সময় হচ্ছিল না। শুক্রবার শিশুপ্রহর হওয়ায় নিয়ে এলাম। এখন সে অনেক খুশি। মূলত নিয়ে এলাম বাচ্চারা এখন মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। তাই যদি একটু সে ঝোঁকটা বইয়ের দিকে যায়, সেজন্য চেষ্টা করছি। ওর জন্য শিশুতোষ কিছু শিক্ষণীয় গল্প, সিনড্রেলা ও ভূতের গল্প বই কিনেছি।

শুধু বাবা-মাই নন, বড় ভাইবোনরাও বইয়ের সঙ্গে পরিচিত করতে ছোটদের নিয়ে আসছেন বইমেলায়। মোহাম্মদপুর থেকে বড় ভাইয়ের সঙ্গে এসেছে আবদুল্লাহ সরদার। সে কিনেছে ‘গল্প পড়ি, জীবন গড়ি’ বই। দেখেছে পুতুলনাচও। তার বড় ভাই আবদুর রহমান বলেন, ওকে একটু ঘুরতে আনলাম, যাতে বইয়ের প্রতি প্রেম জন্মায়। বই পড়ার আগ্রহ বাড়ে। এখন তো সারা দিন ফোন নিয়ে পড়ে থাকে।

গতকাল বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রে মেলার নতুন বই জমা পড়ে ১৯৯টি। বাংলা একাডেমির সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ সভাগৃহে অমর একুশে শিশু-কিশোর আবৃত্তি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে ‘ক’ শাখায় ১০ জন, ‘খ’ শাখায় ১০ জন এবং ‘গ’ শাখায় ১০ জন প্রতিযোগী অংশ নেয়। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেনÑনাসিম আহমেদ, টিটো মুনশী এবং অনন্যা লাবণী পুতুল।

বিকাল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘জন্মশতবর্ষ : কলিম শরাফী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অণিমা রায়। আলোচনায় অংশ নেন সাইম রানা। সভাপতিত্ব করেন সাধন ঘোষ।

বইয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন, দাম নিয়ে অসন্তোষ পাঠকদের

তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি ‘আগ্রহী করে তোলা জরুরি’

শায়খ আহমাদুল্লাহর নতুন বই ‘ঈমানের অপরিহার্য পাঠ’

প্রখ্যাত ছড়াকার সুকুমার বড়ুয়া আর নেই

‘ফিলিস্তিন সাংস্কৃতিক পুরস্কার’ ২০২৫-২৬ ঘোষণা

বাংলা একাডেমিতে সাহিত্যবিশারদ সেমিনার

সিরিয়া-বিপ্লবের গল্প বলছে সিনেমা

লেখক ফোরাম পদক পেলেন তিন গুণী লেখক, পুরস্কার পেলেন ৩০ জন

নুহাশপল্লীতে শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় হুমায়ূন আহমেদ স্মরণ