ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি মাত্র তিনটি আসনে জয়ী হয়। ২০২১ সালের নির্বাচনে এক লাফে তাদের জয়ী আসনের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৭টি। ২৩ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিজেপির লক্ষ্য বাংলা জয়—তথা পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করা। কিন্তু এ পথে তাদের প্রধান বাধা মুসলমান ভোটার, যারা মূলত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলকে ভোট দিয়ে থাকে। এ বাধা অতিক্রমে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার বিশেষ নীলনকশা প্রণয়ন করে অনেক আগে থেকে অগ্রসর হতে থাকে। এ নীলনকশা হলো মুসলমানদের ভোটাধিকার হরণ করা। এই লক্ষ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস থেকে ভোটার তালিকা সংশোধনের কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন, যার নাম এসআইআর। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে এপ্রিলের শুরুতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে ৯১ লাখ ভোটার বাদ পড়েছে । বাদ পড়া এই বিপুল ভোটারদের বিরাট অংশ তথা ৪১ শতাংশ হলো মুসলিম ভোটার অথচ পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার শতকরা ২৭ ভাগ হলো মুসলমান। তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, যেসব এলাকায় মুসলমান জনসংখ্যা বেশি এবং নির্বাচনে ফল নির্ধারণে নির্ণায়কের ভূমিকা পালন করে সেসব এলাকায় পরিকল্পিতভাবে মুসলিম ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
যেমন : পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি মুসলমানদের বসবাস মুর্শিদাবাদে। এখানে মোট জনসংখ্যার ৬৭ ভাগ মুসলমান। ভোটার তালিকায় সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে এই মুর্শিদাবাদে। এখানকার ৪ লাখ ৬০ হাজার ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে, যার অধিকাংশই মুসলিম ভোটার। এই এলাকায় ২২টি আসন রয়েছে বিধানসভায়। ভোটার তালিকায় মুর্শিদাবাদের পর সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনায়। এখানকার ৩ লাখ ৩০ হাজার ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে। এই জেলায় বিধানসভায় ৩৩টি আসন রয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এলাকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালদহ। এখানকার ২ লাখ ৪০ হাজার ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। মালদহে মোট আসনসংখ্যা ১২টি। এভাবে পশ্চিমবঙ্গে যেসব এলাকায় মুসলমানদের বসবাস বেশি, সেসব এলাকায়ই সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে তালিকা থেকে। তালিকা থেকে ভোটার বাদ পড়ার এ হার থেকে থেকে এটা পরিষ্কার, নির্বাচনের ফল বিজেপির পক্ষে আনার জন্য পরিকল্পিতভাবে এটা করা হয়েছে। কারণ অতীতে পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে, যেসব এলাকায় মুসলমান জনসংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস একচেটিয়াভাবে জয়লাভ করে। যেমন : ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলে দেখা গেছে, ৩০ শতাংশ বা তার বেশি মুসলিম ভোটার রয়েছেন, এমন ৮৯টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৮৭টি আসনে জয়লাভ করে। ২০ শতাংশ বা তার বেশি মুসলিম ভোটার রয়েছেন, এমন ১১২টি আসনের মধ্যে ১০৬ আসনে জয়লাভ করে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন বেছে বেছে তাই কোপ মেরেছে ওইসব আসনে। ভোট ডাকাতি করে বিজেপি রাজ্য দখল করতে চাইছে। ভোটে হারাতে না পেরে বিজেপি এবার নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে গোড়ায় কোপ মারতে চাইছে। বিজেপি জালিয়াতির মাধ্যমে জোর করে ভোট দখলের ষড়যন্ত্র করছে, কারণ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচনে লড়াই করে জেতার সাহস তাদের নেই।
পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘বাংলা দখলে বিজেপির দোসর এবার নির্বাচন কমিশন। বিরোধীদের এই অভিযোগ আর কিছু না হোক, নানা কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, যার জবাব দিতে ডাহা ফেল। এসআইআরের পর যে ১২ শতাংশ ভোটার ‘অবৈধ’ ঘোষিত, তার ৫ শতাংশই মুসলিম! মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুরে হিসাবটা চোখে পড়ার মতো।’
সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘সর্বত্র বাদ পড়া ভোটারদের অধিকাংশ মুসলিম, যাদের প্রশ্নাতীত আনুগত্য তৃণমূলের প্রতি। এবারের লড়াই যতটা তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির, ততটাই বাংলার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের। এই প্রথম ভোটের প্রতিপক্ষ হয়ে গেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। স্বাধীন ভারতে কোনো দিন এই ভূমিকায় নির্বাচন কমিশনকে দেখা যায়নি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হলেও কমিশন জানাল না কতজন ‘বাংলাদেশি ঘুষপেটিয়া’ ও কত ‘রোহিঙ্গা’র নাম তারা ছেঁটে দিল।’
নির্বাচনে জয়ের জন্য কীভাবে পরিকল্পিতভাবে বেছে বেছে ভোটার তালিকা থেকে মুসলমানদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বেরিয়ে এসেছে কলকাতার সবর ইনস্টিটিউটের একটি বিশ্লেষণে। সবর ইনস্টিটিউট দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি এলাকা তথা নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছে। এই দুটি আসনে এ বছর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
ভবানীপুরে এবার শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিদ্বন্দ্বী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দেড় হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।
সবর ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নন্দীগ্রামের জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ মুসলিম কিন্তু তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের ৯৫ শতাংশেরও বেশি মুসলিম। একইভাবে, ভবানীপুরে ২০ শতাংশ মুসলিম থাকলেও, এই আসন থেকে বাদ পড়া ভোটারদের ৪০ শতাংশই মুসলিম। নতুন ভোটার তালিকায় ভবানীপুরের ৫১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছেন, যারা আগের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। সবর ইনস্টিটিউটের এ বিশ্লেষণ অনুযায়ী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর উভয় আসনে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শুভেন্দু অধিকারীর বিজয় নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই যে মুসলমান ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাতে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারে না।
মুসলমান ভোটারদের কীভাবে টার্গেট করা হয়েছে, তার আরেকটি দৃষ্টান্ত সংশোধিত ভোটার তালিকা। নির্বাচন কমিশন যে ৯১ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়, তার মধ্যে ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রেখেছিল। কিন্তু পরে আবার যাচাই-বাছাই শেষে সেখান থেকে যাদের নাম বাদ দেয়, তাদের ৬৫ শতাংশই মুসলিম ভোটার। এ বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, চব্বিশ পরগনা, উত্তর দিনাজপুরের মতো ভবানীপুরও পুরো বরবাদ করে দেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গবেষক ও প্রতিষ্ঠান অনেক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। বিবিসি, আলজাজিরা, ডয়চে ভেলেসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এ-সংক্রান্ত অনেক প্রতিবেদন। তাতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ লোকসভা নির্বাচনসহ আগের নির্বাচনে যেসব কেন্দ্র ও আসনে বিজেপি প্রার্থীরা এক থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে হেরেছে, সেসব এলাকায় পরিকল্পিতভাবে মুসলমান ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপি বিরোধীদের অভিযোগ মুসলমানসহ যাদেরই বিজেপি বিরোধী ভোটার হিসেবে মনে করা হয়েছে, তাদেরই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য টার্গেট করা হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য নামের বানান ভুলসহ তুচ্ছ সব কারণ দেখানো হয়েছে এবং এমন সব ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে, যা রাষ্ট্র কখনো তাদের দেয়নি।
ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মৃত ও ভুয়া ভোটার বাতিল করা এবং প্রকৃত ভোটারদের তালিকাভুক্ত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত তালিকায় দেখা গেল মুসলমান ভোটার বাদ দেওয়া ছিল তাদের মূল টার্গেট। তালিকায় নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৯০ হাজার। অন্যদিকে ৯১ লাখ ভোটার বাদ দেওয়া হয়েছে, যারা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন। তালিকায় থাকা ৯১ লাখ ভোটারদের মধ্যে ৬০ লাখকে দেখানো হয়েছে মৃত ও অনুপস্থিত হিসেবে। নির্বাচন কমিশনের এ ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা বা রাজ্য সংসদের আসনসংখ্যা ২৯৪টি। ৩৪ বছর ধরে বামফ্রন্টের ক্ষমতার অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই থেকে তারা পরপর তিনবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ৪৪টি আসন নিয়ে বিরোধী দলে থাকলেও ২০২১ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামপন্থিরা একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি। বস্তুত পশ্চিমবঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামপন্থিদের সব আসনে জয়লাভ করে বিজেপি। এবার কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপির লক্ষ্য তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করা। এই লক্ষ্যে তাদের পরিকল্পনা কম ভোটের ব্যবধান রয়েছে—এমন এলাকায় ফল ডিসাইডিং ভোটার তথা মুসলমানদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক মইদুল ইসলাম ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘মুসলিম ভোট বাদ গেলে তৃণমূলের সমস্যা হবে। শেষ বড় নির্বাচন, মানে লোকসভা ভোটে তৃণমূল ১৯২টি কেন্দ্রে এগিয়ে ছিল। এর মধ্যে যেসব কেন্দ্রে মার্জিন কম, সেখানে নিশ্চিতভাবে একটা প্রভাব তো পড়বে। যেসব কেন্দ্রে ৫০০০-এর ভোটের কম ব্যবধান ছিল, সেখানে মুসলিম ভোট বাদ পড়েছে। এসব জায়গায় বাদ পড়াটা ফ্যাক্টর হবে।’
তার মতে, ‘যে জায়গায় মার্জিনালি বিজেপি হেরে গিয়েছে, সেখানে অবশ্যই বিজেপির সুবিধা হবে। ১৫টি এমন কেন্দ্র আছে, যেখানে বিজেপি এক থেকে পাঁচ হাজারের মধ্যে ভোটে হেরেছে। এই আসনগুলোয় নিশ্চিতভাবে সংখ্যালঘু বা নারী ভোট বাদ গেলে বিজেপির সুবিধা হবে।’
বাদ পড়া অনেক ক্ষুব্ধ ভোটারের অভিযোগ, তাদের ভোটাধিকার অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
মালদহের এক বাসিন্দা বিবিসিকে জানান, তার স্ত্রী সরকারি কর্মচারী, তার নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। এমনকি তার শ্বশুর ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় কার্গিলের যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন, তারও নাম নেই। এই পরিবারটি ইসলাম ধর্মাবলম্বী।
ভারতের সাংবাদিক ঋত্বিকা মিত্র আলজাজিরায় লিখেছেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিজেপির হিন্দু আধিপত্যবাদী প্রচার ও নীতির প্রধান শিকারে পরিণত হয় মুসলিমরা। ২০১৪ সাল থেকে ভারতের মুসলিমরা এমন একটি রাজনৈতিক দল বা জোটকে বিপুলভাবে ভোট দিয়ে আসছে, যাদের ডানপন্থি বিজেপিকে পরাজিত করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পশ্চিমবঙ্গে সেই দলটি হলো তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার জন্যই পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়াটি বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়েছে।
সৌম বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, ভোটের পর যদি দেখা যায় ‘অবৈধ’ ২৭ লাখের মধ্যে ৫-১০ হাজার, কিংবা ৫-১০ লাখ মানুষ ট্রাইব্যুনালের রায়ে ‘বৈধ’ বিবেচিত হন, তাহলে তাদের সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের দায় নিশ্চিতভাবে বর্তাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর। কিন্তু সেই অপরাধে কে শাস্তি দেবে কমিশনকে?
২০২৫ সালে ভারতের নির্বাচন কমিশন ৯টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। ভারতে সবচেয়ে বেশি মুসলমান রয়েছে উত্তর প্রদেশে। এরপর পশ্চিমবঙ্গে। এ দুটি রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ন্যায় উত্তর প্রদেশ, বিহারসহ বিভিন্ন রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে মুসলমান ও দলিতদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অতীতে আসামেও ভোটার তালিকা থেকে মুসলমানদের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিহারে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৩৮ লাখ ভোটার। কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, মুসলিম এবং দলিত নারী ভোটারদের পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করে তালিকা থেকে সরানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশে ভুয়া ফরম পূরণ, মুসলমানদের স্থানে হিন্দুদের নাম বসিয়ে তথ্য পাল্টে দেওয়াসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
সরকারি চাকরিসহ সবক্ষেত্রে যুগ যুগ ধরে ভারতের মুসলমানরা সীমাহীন বৈষম্যের শিকার। অনেক বছর ধরে ভারতে মুসলমানদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন চলছে। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় মুসলমানদের ওপর প্রকাশ্যে হামলা ও হত্যার ঘটনা পর্যন্ত ঘটছে উগ্র হিন্দুদের মাধ্যমে। গুজরাটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মাধ্যমে অতীতে মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে শুধু নীরব নয়; বরং বিভিন্ন ক্ষেত্রে উসকানি দিয়ে চলছে বিজেপির উগ্র হিন্দু নেতারা। এ অবস্থায় বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে পরিকল্পিতভাবে বিপুলসংখ্যক মুসলমানদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনে জয়ের পরিকল্পনা করেছে মুসলিম ও বাংলাদেশবিদ্বেষী উগ্র বিজেপি । চব্বিশের জুলাই বিপ্লবে ভারতের অনুগত হাসিনার পতনের পর পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রধান শুভেন্দি অধিকারীর উগ্র রণমূর্তি দেখেছে এ দেশের মানুষ। এ অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার ঘটনা শুধু পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের জন্য বরং বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগজনক।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ