বাংলাদেশ-পাকিস্তান গত ২৪ বছরে সাদা পোশাকে ১৫ বার মুখোমুখি হয়েছিল। এর মধ্যে পাকিস্তানের ১২ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুই ম্যাচে। সেটাও সবশেষ দুই ম্যাচে রাওয়ালপিন্ডিতে তাদের মাটিতে। পাকিস্তানকে তাদের মাটিতে সিরিজ হারানোয় বাংলাদেশকে দিচ্ছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে। ফলে এটা স্পষ্টভাবেই বলা যায়, অতীত পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকলেও ফর্মে আছে বাংলাদেশ।
২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিন্ডিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছিল এ দুদল। ওই সিরিজের প্রায় দুবছর পর ফের মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পিএসএলের কারণে এবার দুদফায় বাংলাদেশ সফর করছে পাকিস্তান। এর আগে গত মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল দলটি। এবার খেলতে এসেছে টেস্ট সিরিজ।
সাদা পোশাকের এ সিরিজের আগে বেশ জোরেশোরেই প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। লাহোরে পিএসএলের বাইরে থাকা টেস্ট স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের নিয়ে হয়েছে বিশেষ ক্যাম্প। আর পিএসএল খেলা ক্রিকেটাররা আগেভাগে টুর্নামেন্ট শেষে ক্যাম্পে নিজেদের নিয়ে কাজ করেছেন। তাতে স্পষ্ট জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে পাকিস্তান। আর এর জন্য তাদের আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে অতীত পরিসংখ্যান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৫ টেস্ট খেলে ১২টিতেই জিতেছে তারা। ফলে অতীত পরিসংখ্যান থেকে আত্মবিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করবে- এটাই স্বাভাবিক।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে খেলা দুই টেস্টে বাংলাদেশের কাছে কোনোরকম পাত্তাই পায়নি পাকিস্তান। সে ইতিহাসটাও হয়তো ভালোভাবেই মাথায় রেখেছে সফরকারীরা। সে কারণেই বোধহয় প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখতে চায় না তারা।
অতীত পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকা পাকিস্তান পিছিয়ে আছে ব্যক্তিগত ব্যাটিং পারফরম্যান্সে। দুদলের লড়াইয়ে সাত ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি ৬৫০ রান করেছেন মোহাম্মদ হাফিজ। দুই নম্বরে থাকা ইউনিস খান করেছেন ৬৩৮ রান। তবে তারা দুজনের কেউই এখন আর পাকিস্তানের হয়ে খেলেন না। বর্তমানে খেলছেন- এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটারের ব্যাটে এসেছে ৫৬৬ রান। বর্তমানে খেলছেন- এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এসেছে লিটন দাসের ব্যাটে। দুটি করে সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি করা এই ডানহাতি ব্যাটার পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছেন ৪৮০ রান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে বর্তমানে খেলছেন- এমন পাকিস্তানি ক্রিকেটারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। পাঁচ ম্যাচে তার রান ৩৬২। এতেই স্পষ্ট, ব্যাটিংয়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা। তবে বোলিংয়ে সমানে সমান লড়াই করছেন দুদলের বোলাররা।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি ৩৪ উইকেট শিকার করেছেন দীনেশ কানেরিয়া। ২০১০ সালে সবশেষ টেস্ট খেলা এই ক্রিকেটারের পর সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের কীর্তি তাইজুল ইসলামের। তার শিকার পাঁচ ম্যাচে ২২ উইকেট। আর শাহিন শাহ আফ্রিদি চার ম্যাচে ১৭ এবং সাজিদ খান দুই ম্যাচে শিকার করেছেন ১৬ উইকেট। আর বাংলাদেশের হয়ে বর্তমানে খেলছেন- এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি মেহেদি হাসান মিরাজ। তার শিকার ১২ উইকেট।
তবে পরিসংখ্যান যার পক্ষেই কথা বলুক, মাঠে পাকিস্তানের জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে পেস বোলিং দিয়ে দারুণভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করছে বাংলাদেশ। যার প্রমাণ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ। তরুণ নাহিদ রানার সঙ্গে অভিজ্ঞ তাসকিন আহমেদ-শরিফুল ইসলামরা আছেন বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে। ফলে পাকিস্তানকে সামলাতে হবে বাড়তি চাপ। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরের উইকেটেও পেস বোলিংয়ে রাজত্ব করছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এটাও চিন্তার কারণ হতে পারে পাকিস্তানিদের জন্য।
মিরপুরের মতো সিলেটেও পেসাররা পান দারুণ সহায়তা। ফলে সেখানেও পেসারদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। বাংলাদেশের মাটিতে এমন পেস বোলিং ইউনিটের কারণে পাকিস্তানিদের কুপোকাত হওয়ার শঙ্কাটাই বেশি। এই কঠিন চ্যালেঞ্জের কারণেই বলা যায়, অতীত পরিসংখ্যান পক্ষে কথা না বললেও ফর্ম আছে বাংলাদেশের পক্ষে।