মিরপুর টেস্ট
মিরপুর টেস্টে প্রথম দিনটা ছিল বাংলাদেশের দখলে। কিন্তু দ্বিতীয় দিনে ম্যাচের চিত্র বদলাতে শুরু করেছে ধীরে ধীরে। বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে পাকিস্তান। দিনের খেলা শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪৬ ওভারে ১ উইকেটে ১৭৯ রান। তারা এখনো পিছিয়ে ২৩৪ রানে। অভিষিক্ত আজান আওয়াইসের অপরাজিত ফিফটিতে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে পাকিস্তান। আগামীকাল সকালে আওয়াইসের (৮৫) সঙ্গে ব্যাট করতে নামবেন অপরাজিত থাকা আব্দুল্লাহ ফজল (৩৭)।
দ্বিতীয় দিনে ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। হাতে ছিল ছয় উইকেট, লক্ষ্য ছিল চারশ রান পার করা। তবে সকালের সেশনেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। জন্মদিনে ব্যাট হাতে দারুণ লড়াই করেছেন মুশফিকুর রহিম। দিনের শুরুতেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তম ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। অন্য প্রান্তে লিটন দাসও খেলছিলেন আত্মবিশ্বাসী ইনিংস। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে গড়েন গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশত রানের জুটি।
তবে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ আব্বাস একের পর এক আঘাত হানেন বাংলাদেশের ইনিংসে। ৩৩ রান করা লিটনকে ফিরিয়ে ভাঙেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এরপর দ্রুতই ফিরে যান মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন।
বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে আক্ষেপ হয়ে থাকল মুশফিকের আউট। নিজের জন্মদিনে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও ১৭৯ বলে ৭১ রান করে শাহিন আফ্রিদির দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন তিনি।
শেষদিকে তাসকিন আহমেদের ঝড়ো ব্যাটিং বাংলাদেশকে এনে দেয় স্বস্তি। আব্বাসকে স্ট্রেট দিয়ে ছক্কা মেরে দলকে চারশ পার করান এই পেসার। ১৯ বলে ২৮ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তাসকিন। শেষ পর্যন্ত ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। ৩৪ ওভারে ৯২ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। শাহিন আফ্রিদি শিকার করেন ৩টি উইকেট।
৪১৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার ইমাম–উল–হক ও অভিষিক্ত আজান আওয়াইস। যদিও শুরুতে কয়েকটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু বাংলাদেশের ফিল্ডাররা সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি।
নাহিদ রানার গতির বাউন্সারে একবার হেলমেটে আঘাতও পান আজান আওয়াইস। তবে চিকিৎসা নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে ফেরেন তিনি। এরপর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। ইবাদত হোসেনের এক ওভারে দুটি চার মেরে নিজের অভিষেক ইনিংসেই ফিফটি তুলে নেন আজান। একই সঙ্গে পাকিস্তানের স্কোরও পৌঁছে যায় এক শ রানে।
অবশেষে ১০৬ রানের মাথায় মেহেদী হাসান মিরাজ ভাঙেন পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটি। এলবিডব্লিউ হন ইমাম–উল–হক। ৭২ বলে ৪৫ রান করেন এই ওপেনার। তবে এরপরও থামেনি পাকিস্তান। আরেক অভিষিক্ত আব্দুল্লাহ ফজলকে নিয়ে নতুন জুটি গড়েন আজান আওয়াইস। দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুতই পঞ্চাশ রানের জুটি তুলে নেয় পাকিস্তান।
আজান আওয়াইস ৮৫ রানে অপরাজিত, আব্দুল্লাহ ফজল খেলছেন ৩৭ রানে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থেকে এখনও ২৩৪ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান, তবে দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচে সফরকারীদের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গেছে। আগামীকাল কি হয় সেটাই দেখার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে)
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৪৬ ওভারে ১৭৯/১(আওয়াইস ৮৫*, ফজল ৩৭*; মিরাজ ১/৩৭)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ১১৭.১ ওভারে ৪১৩ ( নাজমুল ১০১, মুমিনুল ৯১, মুশফিক ৭১, লিটন ৩৩, তাসকিন ২৮, তাইজুল ১৭, সাদমান ১৩ ; আব্বাস ৫/৯২, আফ্রিদি ৩/১১৩, হাসান ১/৭৫, নোমান ১/৮০)।