রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় হঠাৎ ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে আলুক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ আলুক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জমিতে থাকা আলু পচে নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। এমনিতেই বাজারে আলুর দাম কম থাকায় লোকসানের মুখে থাকা কৃষকদের জন্য এই বৃষ্টি যেন ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় তারা আগেই হতাশ ছিলেন। বর্তমানে অনেক স্থানে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি মাত্র আট থেকে ১০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। এর মধ্যেই টানা বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে গেছে।
গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, আমি প্রায় ছয় বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে ভেবে আশা করছিলাম কিছু লাভ হবে। কিন্তু বাজারে আলুর দাম অনেক কম। তার ওপর হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে গেছে। এখন যদি আলু পচে যায় তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
একই ইউনিয়নের আরেক কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু আলুর দাম এখন খুবই কম। তার ওপর বৃষ্টিতে আলুক্ষেতে পানি জমে গেছে। এখন দ্রুত পানি না নামলে অনেক আলু নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, হঠাৎ হওয়া বৃষ্টিতে উপজেলার কিছু নিচু এলাকার আলুক্ষেতে পানি জমে গেছে। এতে আলু পচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের জমি থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারাও কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করছেন।
এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা মাঠের ফসলের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।